নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. রুহুল আমিনকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে।
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা–২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদরের একাংশ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। এই আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন গত মঙ্গলবার এ নোটিস জারি করেন।
নোটিসে প্রার্থীকে ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য বা ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন ১২ জানুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় দলীয় কর্মশালায় বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যকে উসকানিমূলক এবং নির্বাচনি আচরণ বিধিমালার পরিপন্থি দাবি করে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এম এ সবুর একই দিন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
ওই অভিযোগের সূত্র ধরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কেন নির্বাচন কমিশন বরাবর সুপারিশসহ প্রতিবেদন করা হবে না, সে বিষয়ে ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে বলেন, ‘১২ জানুয়ারি তারিখে মূল বক্তব্য ছিল আমরা ভোট চুরি করব না, ভোট চুরি কাউকে করতে দেব না। আমরা দিনের ভোট রাতে নিয়ে এমপি হব না, রাতে কাউকে ভোট নিতে দেব না। সুতরাং যারা নির্বাচনে ভোট চুরি করতে আসবে, তাদের আমরা প্রতিহত করব। প্রতিহত করার জন্য খালি হাতে হবে না, আপনারা বাঁশের লাঠি কেটে রেখে দেবেন। যদি প্রয়োজন হয়, কেউ যদি ভোট চুরি করতে আসে, তাহলে প্রশাসনের পাশাপাশি আপনাদেরও শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে। সে কারণে এই বক্তব্য দেওয়া। এই বক্তব্য আমাদের কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য নয়। এটা কাউকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য নয়। বক্তব্যটা আচরণবিধি লঙ্ঘন করার জন্যও নয়। মূলত সুষ্ঠু–সুন্দর একটি নির্বাচন করার জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনামাত্র।