কৃষক দল নেতা নিহতের জের
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে জামায়াত সমর্থিত ১০-১২ জন নেতাকর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর বিএনপি নেতাকর্মীরা এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এতে কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামের আব্দুল আজিজ, তার বড় ভাই মোশারফ হোসেন, নায়েব আলী, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদুর রহমান, মিটুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, মতিয়ার রহমান লিটন এবং মাজিজ মণ্ডলসহ অনেকের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে জামায়াত নেতা আজিজ, নায়েব আলী এবং মতিয়ার রহমানের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। রাতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার নিহতের ছেলে মেহেদী হাসান ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে হরিণাকুণ্ডু থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো মামলাটি নথিভুক্ত হয়নি।
এদিকে, কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হরিণাকুণ্ডুতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, কয়েক দিন আগে ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে নিহত কৃষক দল নেতা আবুল কাশেম ও তার চাচা নাজের আলী, বিএনপি সমর্থক মন্টু, এনামুল ও সেলিমসহ কয়েকজনের সঙ্গে জামায়াত নেতা রিমন হোসেন ও আব্দুল আজিজের বাগ্বিতণ্ডা হয়। বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার আবার তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে আবুল কাশেম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
স্থানীয় যুবদল নেতা সাইদুর রহমান বিটু জানান, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবুল কাশেমকে পিটিয়ে হত্যা করে জামায়াত সমর্থিত লোকজন।
কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে পরিবারটি বিএনপি ও জামায়াতে বিভক্ত। রাতে এ ঘটনার জেরে অনেকের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান আরো জানান, রাতেই কুল্লাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। সঙ্গে সেনাসদস্যরাও ছিলেন। একটি রান্নাঘরে সামান্য আগুন দিয়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নিহত কৃষক দল নেতার মৃত্যু হয়েছে পারিবারিক বিরোধের জেরে। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসাইন। তিনি বলেন, বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য রাজনৈতিক রঙ মাখিয়ে কিছু নিরীহ মানুষের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে।