ক্ষমতার অপব্যবহার-দুর্নীতির অভিযোগ
যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে এনে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন শরিফুল আলম নামে এক ব্যক্তি। এর কিছু সময় পর আদালত চত্বরের সামনের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সোমবার যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ আইনজীবী সমিতির নেতারা বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর জানান, একটি চেক জালিয়াতি মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় পুলিশ শরিফুলকে গ্রেপ্তার করেছে।
যশোর শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা শরিফুল সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুনের আদালতে অভিযোগটি করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস।
মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়েছে, আইনবহির্ভূত আদেশ, আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত ৪ মার্চ থেকে জেলা আইনজীবী সমিতি ওই বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই বিচারক একতরফাভাবে বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
বাদী শরিফুল আলমের দাবি, গত ৩০ মার্চ ইসলামী ব্যাংকের একটি মামলায় তিনি সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে সময় প্রার্থনা করলেও বিচারক তা নামঞ্জুর করেন। উল্টো আদেশে আসামিকে বারবার উপস্থিতির নির্দেশ দিলেও হাজির হননি বলে উল্লেখ করে একতরফাভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ও যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।
বিচারকের এমন কর্মকাণ্ডকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি হিসেবে গণ্য করে এর আগে দুদক ও থানায় অভিযোগ দিয়েছেন শরিফুল। তার ভাষ্য, দুদক ও থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।