সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর এলাকায় বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মেসার্স জান্নাতুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, নূরনগরের দক্ষিণ হাজিপুর দিঘীরপাড় এলাকায় অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার অভিযোগ ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ হোসাইন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
মৎস্য পণ্য মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২০-এর ধারা ৩১(১) অনুযায়ী রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিউর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অপদ্রব্য মেশানো (পুশকৃত) চিংড়ি জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালিদুর রহমান, এসআই জহিরুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, সাতক্ষীরার বাগদা চিংড়ি ‘সাদা সোনা’ হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত। এ খাত থেকে প্রতি বছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে তা হুমকির মুখে পড়ছে। চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং রপ্তানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, কেউ এ ধরনের অপরাধের তথ্য পেলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং চিংড়ি শিল্প তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।