কেশবপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি
যশোরের কেশবপুরে ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশুদের মধ্যে পচা ডিম ও নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার, যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার এবং খাদ্য সরবরাহকারী এনজিও সুশীলনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে। কেশবপুর উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাদ্য সরবরাহ করছে ঢাকার এনজিও সুশীলন, প্রাণ ও আকিজ গ্রুপ। এর মধ্যে বিস্কুট ও দুধ সরবরাহ করছে প্রাণ ও আকিজ গ্রুপ।
উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর থেকে কেশবপুর উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১ হাজার ৫৯৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকারিভাবে ফিডিং কর্মসূচির আওতায় টিফিন হিসেবে ডিম, দুধ, কলা, বনরুটি ও বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব খাদ্য সরবরাহ করছে এনজিও সুশীলন, প্রাণ ও আকিজ গ্রুপ। এর মধ্যে শনিবারের খাদ্যের তালিকায় রয়েছে ডিম ও বনরুটি, গত রোববার ডিম ও বনরুটি, সোমবার দুধ ও বনরুটি, মঙ্গলবার ডিম ও কলা, বুধবার ডিম ও বনরুটি এবং বৃহস্পতিবার ডিম ও বনরুটি। এসব খাদ্যের মধ্যে দুধ সরবরাহ করছে আকিজ গ্রুপ। সুশীলনের কর্মকর্তারা জানান, সরকার একটি বনরুটির দাম দিচ্ছে ২২.৮৫.৯ টাকা, একটি কলার দাম ৯.৭৯.৭ টাকা এবং একটি ডিমের দাম ১৩.৫২.৯ টাকা। কিন্তু শিশুদের মধ্যে পাঁচ টাকা দামের বনরুটি, তিন-চার টাকা দামের কলা এবং ৯-১০ টাকা দামের ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত দাবি করেছেন সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকেরা। শিক্ষার্থী এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে প্রায়ই পচা ডিম, মেয়াদোত্তীর্ণ বনরুটি, বিস্কুট ও নিম্নমানের কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব খাবার খেয়ে শিশুরা ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। চিংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় দত্ত বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই পচা ডিম ও বনরুটি সরবরাহ করা হয়। হাসানপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ১৭ মে তার প্রতিষ্ঠানে শিশুদের মধ্যে পচা ডিম ও নিম্নমানের কলা সরবরাহ করা হয়েছে।
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শিক্ষক শাহীনুর রহমান বলেন, ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সুশীলন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই পচা ডিমসহ নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করছে, যা খাওয়ার উপযোগী নয়।
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুশীলন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই পচা ডিম ও নিম্নমানের বনরুটি এবং কলা সরবরাহ করছে বলে শিক্ষকেরা তার কাছে অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার ও সুশীলনকে চিঠি দিয়ে জানানোর পরও ১৭ মে হাসানপুর স্কুলে নিম্নমানের কলা সরবরাহ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনেওয়াজ বলেন, পচা ডিম ও মেয়াদোত্তীর্ণ বনরুটি খেলে শিশুদের ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।