নেত্রকোনার পূর্বধলায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে ইজারা নিলাম চলাকালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আগিয়া ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি মাহফুজ (৩৫), জামায়াত কর্মী এবাদুল (৫০), শফিউল্লা (৩০), শেখ বোরহান উদ্দিন (৪০), হানিফ উদ্দিন (৩৫) এবং যুবদল নেতা ওমর শরীফ (৩৬)। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৫৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর লক্ষ্যে নিলাম কার্যক্রম চলছিল। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য নিলাম শুরু হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও দরদাতারা অংশ নেন।
নিলাম চলাকালে একটি পশুর হাটের দরদাতাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতির উত্তেজনা বাড়লে পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগিয়া বাজার এলাকায় যুবদল নেতা ওমর শরীফের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ সময় একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। মোটরসাইকেলটির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষই পরস্পরবিরোধী দাবি করেছে।
এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ বাবুল আলম তালুকদার বলেন, জামায়াতের লোকজন ইজারা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের উসকানি দেয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাছুম মোস্তফা বলেন, বিএনপির লোকজন প্রভাব খাটিয়ে পশুর হাটের ইজারা নিতে চাইলে জামায়াত কর্মীরা বাধা দেন। এতে তাদের অন্তত অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও তাসনীম জাহান জানান, সংঘর্ষের কারণে নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।