শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যা মামলা
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামিসহ ৪০ জনকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান আসামি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ দলের শীর্ষ নেতৃস্থানীয় ৪০ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ দুপুরে আগাম জামিনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
জানা যায়, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ জন আসামি হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেন।
এ ব্যাপারে আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহাদাত হোসেন জিকো জানান, জামিন আবেদনের শুনানি শেষে ৪০ জন আসামিকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) শেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। এ মামলায় ২৩১ জনকে স্বনামে এবং আরও ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।