নাটোরের লালপুরে বালুবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের নবীনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরো ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন লালপুর উপজেলার ভেল্লাবাড়িয়া এলাকার মৃত জোয়াকুল ইসলাম (জোহা মাস্টারের) ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫০), বড়বাদকয়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে মনির (২৭) এবং ছোট বাদকয়া গ্রামের ফজলুর ছেলে বাবুল (৪০)।
আহতরা হলেন ভেল্লাবাড়িয়া এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে রাজিবুল ইসলাম (২৬), সিদ্দিক আলীর ছেলে রাব্বি (২৫), রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মজনু (৩৫) এবং বড়বাদকয়া গ্রামের আজিতের ছেলে মিঠুন (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ৭টার দিকে নবীনগর এলাকায় একটি বালুবোঝাই ট্রাক (বগুড়া-ড ১১-০৯-৩৪) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পাশের একটি বাড়ির পাকা দেওয়াল ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে অটোরিকশার যাত্রী জাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পথে চারঘাট এলাকায় মুনিরের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর বাবুল মারা যান।
হাসপাতাল থেকে তাদের প্রতিবেশী মাইনুল ইসলাম মুঠোফোনে মুনির ও বাবুলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাউসার জানান, আহতদের মধ্যে রাজিবুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত রাজিবুল ইসলাম জানান, তারা পেঁয়াজ তোলার কাজে একটি অটোরিকশা ভাড়া করে ফরিদপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে একটি বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আইনিপ্রক্রিয়া শেষে নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।