হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

আম বাগানে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ

মঈন উদ্দিন, রাজশাহী

রাজশাহী নগরীর গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। প্রকৃতি জানান দিচ্ছে ঋতু বদলের। ছবি: আসাদুজ্জামান আসাদ

আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহী অঞ্চলের সর্বত্র গাছে গাছে আমের মুকুলের সমারোহ। ভোরের বাতাসে ভেসে আসা মিষ্টি ঘ্রাণে ম-ম করছে এলাকা। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে রাস্তার ধার, পুকুরপাড় কিংবা বিস্তীর্ণ বাগান—সবখানেই গাছে শোভা পাচ্ছে হলুদ-সবুজ মুকুল। আগামী দিনের পাকা আমে স্বপ্ন বুনছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

আমের মুকুল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, এটি রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতির প্রধান ভরসা। প্রতি বছর এ অঞ্চলের আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। রপ্তানি হয় বিদেশেও। ফলে মুকুল আসার সঙ্গেই সঙ্গে জেগে ওঠে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার আলো।

বাঘা এলাকার আমচাষি আলী আহম্মেদ বলেন, বছরজুড়ে গাছের পরিচর্যা করার কারণে প্রতি বছরই আমের ভালো ফলন পাওয়া যায়। এবারও আমার গাছের পরিচর্যা করছি। এরই মধ্যে দুয়েকটি গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। তবে সঠিক সময়ে শোষক পোকা দমন করা না গেলে আমের ফলন কম হতে পারে।

রাজশাহী মহানগরসহ জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও পবা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, গাছের প্রতিটি ডাল যেন মুকুলে মোড়া। কোথাও কোথাও গাছের পাতা দেখা দায়। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে বাগানগুলো। বসন্তের দখিনা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়া এ সুবাস প্রকৃতিপ্রেমীদের যেমন আকৃষ্ট করছে, তেমনি কৃষকদের মনে জাগাচ্ছে নতুন আশা।

এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল আগেভাগেই এসেছে, সংখ্যায়ও বেশি। চারঘাটের কালুহাটি গ্রামের আমচাষি মোজাফফর হোসেন বলেন, এবার বাগানে আগেভাগেই মুকুল এসেছে। গাছভর্তি মুকুল দেখে মন ভরে যাচ্ছে। যদি কুয়াশা আর ঝড়ে নষ্ট না হয়, তাহলে এ বছর বিপুল আম উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছি।

পবা উপজেলার আমচাষি মনিরুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর টানা শীত ও কুয়াশার তীব্রতা অনেক কম। ফলে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে মুকুলের সময়টাই সবচেয়ে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে চারঘাটের আরেক চাষি তুহিন আলী বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। তবে হপার বা শোষক পোকার আক্রমণ সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ফলন মারাত্মক কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষিরা মুকুলকে রোগবালাই থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ছিটানোর কাজ শুরু করেছেন। বাগান মালিক আক্তার হোসেন বলেন, গাছভর্তি মুকুল মানেই স্বপ্ন। এখন শুধু চাই—আবহাওয়া ভালো থাকুক।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান, এবার মুকুল বেশ আগেভাগেই এসেছে। কিছু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি মুকুল আসবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এবং মার্চের প্রথম দিকে সব গাছে পরিপূর্ণ মুকুল আসবে। তবে কুয়াশায় বড় ধরনের ক্ষতি না হলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

তিনি জানান, কৃষকদের বাগান পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বেশি ফলনের আশায় কৃষকরাও সে অনুযায়ী কাজ করছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, মাঠপর্যায়ে আমের ভালো উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। সহকারী ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।

তিনি জানান, গত বছর রাজশাহীতে হেক্টরপ্রতি আমের উৎপাদন হয়েছিল ১২ দশমিক ৭৫ টন এবং চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) রাজশাহী অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়। উৎপাদন হয় দুই লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ টন আম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৪৬ হাজার টন।

সূত্র জানায়, রাজশাহী অঞ্চলের নওগাঁ জেলায় আম চাষের জমি দ্রুত বাড়ছে। গত ১০ বছরে নওগাঁয় আমবাগানের জমি দেড়গুণ বেড়েছে, যা চাঁপাইনবাবগঞ্জকেও ছাড়িয়ে গেছে। চাষ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। শতবছরের জন্য আমবাগান তৈরির পরিবর্তে কৃষকরা এখন মাত্র ১০ বছরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাগান করছেন। এছাড়া আম্রপালি এবং বারি আম-৩ ও ৪ জাতের চাষ প্রতি বছর বাড়ছে জেলাগুলোয়।

‘আমার সন্তানও যদি অপরাধী হয়, ব্যবস্থা নিতে হবে’

বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর অভিযোগ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু

সাপাহারে প্রথম রমজানেই ইফতার সামগ্রী ও নিত্যপণ্যের দাম চড়া

বাবার পথ ধরে একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী পটলকন্যা

রাজশাহীতে কাঁচাবাজারে নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের পতাকা উত্তোলন, জব্দ করল পুলিশ

১ টাকায় বিএনপির ইফতার পাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

সিরাজগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

মহাসড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে হিরো আলম গ্রেপ্তার