নওগাঁ-১
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে নওগাঁ-১ আসনে নির্বাচনি প্রচারে সরগরম হয়ে উঠেছে। গ্রাম-গঞ্জের অলিগলি থেকে শুরু করে হাট-বাজার সবখানেই প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুরের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপক প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন তারা। আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। যদিও আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন নিয়ামতপুর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী। এ আসনে ছালেক চৌধুরীর শক্ত অবস্থান থাকলেও দলীয় প্রতীক না পাওয়ায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে মাঠে নেমে পড়েছেন। বর্তমানে ছালেক চৌধুরীর অনুসারী নেতাকর্মীরা মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনি মাঠে একজোট হয়ে কাজ করছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ধানের শীষে প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম তার নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। অন্যরা হলেন— ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল হক শাহ্ ও জাতীয় পার্টির মো. আকবর আলী কালু।
বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নওগাঁ-১ আসন ধানের শীষের ঘাঁটি। আমি ধানের শীষের প্রার্থী। মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলেও জানান তিনি।
জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহাবুবুল আলম বলেন, মানুষ এতদিন বিভিন্ন দলকে দেখেছে। এবারে মানুষ জামায়াতকে দেখতে চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় রাজনীতি করেছি। জনগণ আমাকে তিনবার ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে। আমি এই এলাকার অনেক উন্নয়ন করেছি। জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রসঙ্গত, নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার চার লাখ সাত হাজার ৪৬৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার দুই লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৪ জন। পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।