প্রায় ১৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রায়গঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে । পাঁচ বছর গেলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি । ফলে মসজিদটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, অতিরিক্ত ব্যয়, প্রশাসনিক গড়িমসি, দুর্বল তদারকি এবং ইমাম ও মোয়াজ্জিন নিয়োগে দলীয় প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। এই প্রকল্পটিকে সবচেয়ে অপচয় ও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনভয় সার্ভিস–৪ নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
কিন্তু পুকুর ভরাট, ভূমি পরিবর্তন, নকশা সংশোধন এবং অতিরিক্ত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যয় বৃদ্ধির অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় এবং অনিয়ম করা হয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরে নিম্নমানের টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে অনেক স্থানে ফেটে গেছে। শৌচাগার এবং পানির লাইন ও ফিটিংসও খুব নিম্নমানের করা হয়েছে। এতে উদ্বোধনের আগেই লিকেজ দেখা দিয়েছে। দেয়ালের রঙ উঠে গেছে এবং ইট, বালু মানসম্মত নয়। কাঠ ও প্লাস্টিকের চেয়ারের অংশ ভেঙে গেছে। দরজার কবজা খুলে গেছে। স্টিলের সামগ্রী মরিচা ধরেছে। লাইট, ফ্যান এবং সুইচের অধিকাংশই অকেজো। মসজিদটিতে লাগানো এসিগুলোও সস্তা মানের। ব্যবহার শুরু হলেই বিকল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মসজিদটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের এক কোনের পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সাধারণ মুসল্লিদের যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে না । এছাড়া আশেপাশে জনবসতি নেই, তাই নিয়মিত নামাজে মুসল্লি অংশগ্রহণও সম্ভব হচ্ছে না।
মসজিদটিতে যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করা হয়নি রাস্তা। ভরাটকৃত পুকুরেরপাড় রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে কাদা ও পানিতে ভর্তি হয়ে যায়। মসজিদের দক্ষিণ পাশের পুরাতন গেটটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় মসজিদে প্রবেশের বিকল্প কোনো পথ নেই। স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে মানুষ নেই, সেখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদ বানানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ইমাম ও মোয়াজ্জিন নিয়োগের বিষয়টি আরো বিতর্কিত বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, গোপন লবিং এবং প্রভাবশালী মহলের পছন্দের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেখানোর চেষ্টা চলছে। যোগ্যতার চেয়ে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশঙ্কায় প্রকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় সমাজকর্মী আব্দুল হালিম বলেন, মসজিদে স্বজনপ্রীতির নিয়োগ ও দলীয় প্রভাব এখানে ঢুকলে তা হবে বড় অন্যায়।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং শিগগিরই তদারকি করে উদ্বোধন করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়াও নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এখনো মীমাংসিত হয়নি। সাড়ে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও উদ্বোধন হয়নি কেন, ব্যয় বাড়ল কীভাবে, নিম্নমানের কাজের দায় কার এবং পবিত্র মসজিদে দলীয় প্রভাব কেন চলতে দেওয়া হচ্ছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর স্থানীয়রা চাইছেন।