হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

নওগাঁয় মুকুলে ছেয়ে গেছে আমবাগান, ভালো ফলনের প্রত্যাশা মালিকদের

শেখ আনোয়ার হোসেন, নওগাঁ

ছবি: আমার দেশ

মুকুলে ভরে গেছে আমপ্রধান এলাকা নওগাঁর আমবাগান। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের মনমাতানো ঘ্রাণ। বাগানগুলোয় হলুদ আর সবুজের মহামিলন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গতবারের চেয়ে এবার গাছে মুকুল এসেছে বেশি। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে ওঠা মুকুলের শোভা ভালো ফলনের আভাস দিচ্ছে। বাগানমালিকেরাও আশায় বুক বেঁধেছেন। ধানের পরেই আমের ওপর বেশি ভরসা এ জেলার কৃষকদের।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির বাগানে আমের চাষ করা হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর। গত বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার টন। তবে ফলন বিপর্যয় হওয়ায় উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন। এবার ৪ লাখ ৫০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

সবচেয়ে বেশি আম চাষ হয় সাপাহার ও পোরশা উপজেলায়। এ দুই উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির বাগানে এবার আমের চাষ হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, বাগানে সারি সারি আমগাছে শোভা পাচ্ছে মুকুল। আর সেই মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের ডালপালা। তবে বড় ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল এসেছে। বাগান ছাড়াও বসতবাড়ি, রাস্তার পাশের গাছগুলোতেও হলুদ আর সবুজ মিলিয়ে কেবলই চোখে পড়ছে মুকুল। এখন ভালো ফলনের আশায় গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগানমালিকেরা।

আমচাষিরা জানান, গত বছর বাগানগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মুকুল এলেও শীত দীর্ঘ এবং ঘন কুয়াশায় পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ মুকুল ও আমের গুটি ঝরে যায়। এতে ফলন বিপর্যয় হয়।

এ বছর বাগানে প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। তবে শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশা না থাকায় এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে। আমের ভালো ফলনের আশা করছেন বাগানমালিকেরা। তবে চাষিদের দাবি, সব ধরনের বালাইনাশক ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় আম উৎপাদনের খরচ বাড়ছে।

সাপাহার উপজেলার আমচাষি তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, ‘গত বছর তার বাগানের ৫০-৬০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। এবার এখন পর্যন্ত তার বাগানে ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাকি গাছগুলোতেও মুকুল আসবে বলে আশা করি।

আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে আছে। কিছু কিছু মুকুলে গুটিও আসতে শুরু করেছে। মুকুল ধরা ও গুটি আসার এই সময়টায় রোদের তাপ ভালো পাওয়ায় মুকুলে ছত্রাকের আক্রমণ তেমনটা নেই।’

একই উপজেলার আমচাষি সাইদুর রহমান বলেন, ‘গত বছর শীতের কারণে অনেক দেরিতে মুকুল এসেছিল। ১৫ থেকে ২০ দিন দেরি হয়েছিল। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়েও অনেক গাছে মুকুল ধরেছিল। তবে সে তুলনায় এবার অনেক আগেই মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের ভালো ফলন হবে।’

পোরশা উপজেলার আমচাষি মর্তুজা মাহাতাব বলেন, ‘মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা করছি। মুকুল রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্প্রে করা হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে।’

আমচাষি বেলায়েত চৌধুরী বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার সবার বাগানে অনেক ভালো মুকুল এসেছে। গাছে মুকুল যেন ঝরে না পড়ে সেজন্য সার, কীটনাশক ও সেচ দেওয়া হচ্ছে। তবে বালাইনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগান পরিচর্যার খরচ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, ‘বাগানগুলোতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে গাছে গাছে মুকুল আসা শুরু করেছে। মুকুল ধরতে শুরু করার পর থেকে তাপমাত্রাও বাড়তে শুরু করেছে।

এছাড়া এই সময়টাই এবার ঘনকুয়াশাও হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো মুকুল ঝরে পড়েনি। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমচাষের অনুকূলে থাকায় আমের ভালো ফলন পাবে আশা করছি। এর পরেও মুকুল ও গুটি যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা চাষিদের কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

সীমান্ত থেকে দুর্লভ কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার

কন্ঠ নকল করে প্রতারণা, ২১ লাখ টাকাসহ স্বামী-আটক

নদীতে মাছ ধরার সময় ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

চাটমোহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ'লীগের ইফতার মাহফিল, বিক্ষোভ

সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে উন্নয়নে সহায়তা চাইলেন এমপি মিলটন

আমি দলমত-নির্বিশেষে সবার এমপি হয়ে কাজ করতে চাই : মোস্তাফিজুর রহমান

পরিযায়ীদের আশ্রয়স্থল তিরাইল

স্বাদ-ঐতিহ্য ধরে রেখেছে জিলাপি, শাহী ফিরনি

ঈশ্বরদীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ইউএনও’র অভিযান

অনাবাদী আঙিনা এখন সবুজে ভরা, নারীদের হাতে বদলে যাচ্ছে গ্রাম