বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরোপুরি ব্যর্থ। মিডিয়ার সামনে বসলে, প্রতিদিন পেপার পত্রিকা দেখলে দেশের কোথাও না কোথাও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
সোমবার বিকেলে বদরগঞ্জ হাইস্কুল অডিটোরিয়ামে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রতিদিন চুরি ছিনতাই ডাকাতি থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। সেই কর্মকাণ্ডগুলোতেই তাদের দলের লোকজনেরাই জড়িত। তাদের দলের লোকজনের বাড়তি ইনকামের আশায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হয়েছে যে ব্যবসায়ী ও চাকরি জীবী থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ মানুষ ভয়ে ভয়ে বাড়ি থেকে বের হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হওয়ার পরেও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেদিকে কোন খেয়ালই করছেন না।
এটিএম আজহার বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন, বাণিজ্যমন্ত্রী, এলজিইডি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ থেকে শুরু করে সকল মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে তিনি সংবিধান ছাড়া কথা বলেন না। তিনি সব বিষয়ে পারদর্শী। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে পুরোপুরি ব্যর্থ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক নীতিবাক্যের কথা বলেন। কিন্তু সে নীতি কথা বাস্তবায়নে তার যথেষ্ট অনীহা। সভা সেমিনারে তাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্য মাদক জুয়ার বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায় মাদক জুয়া সহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের লোকজনই জড়িত।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও ভালো করে জানেন মাদক নির্মূল করতে না পারলে এ দেশ থেকে ছিনতাই চাঁদাবাজি সন্ত্রাস রাহাজানি এমনকি নারীদের প্রতি অন্যায় অত্যাচার নির্যাতন জুলুম কোনভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই যেকোনো মূল্যে সবার আগে সব ধরনের মাদককে নির্মূল করতে হবে। তা না হলে এদেশের যুব সমাজকে রক্ষার পাশাপাশি অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন, চুরি ডাকাতি ছিনতাই নির্মূল করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি রাষ্ট্র এ দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মাদকের কারখানা বসিয়েছেন। সেখান থেকে মাদক সরবরাহ করে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং উদীয়মান ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছেন। তারা চায় এদেশের মানুষ মেধা শূন্য হয়ে মাদক সেবনে উৎসাহিত করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে। মাদক বিক্রির বড় একটি অংশ সরকারি দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেক উপর পর্যন্ত চলে যায় বলে কখনো মাদক নির্মূল হয় না।
এটিএম আজহার শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে ধর্ষক জড়িত সে নিজেও পুরোপুরি মাদকের সঙ্গে আসক্ত ছিল। ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে সে নিজেও মাদক সেবন করেছিল বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তাই সবার আগে আমাদের মাদক নির্মূল করতে হবে। মাদক নির্মলের বিকল্প নেই। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো সবার আগে মাদক নির্মূল করে যুব সমাজকে রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের রক্ষা করুন।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে আজহার বলেন, ইসলামী ব্যাংকে লুটপাটের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে নিয়োগ দিয়ে ব্যাংক ধ্বংস করার লিপ্ত রয়েছেন সরকারের একটি অংশ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় যেহেতু সুদ ঘুষের বিরুদ্ধে। এ কারণে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামী ব্যাংকটি একটি ইসলামী আদর্শিক ব্যাংক বলে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু একটি মহল চায়না ব্যাংকটি সুদ মুক্ত ভাবে পরিচালিত হয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান হয়ে থাকুক। তাই তারা আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা এস আলমের টাকা পাচারকারীকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা আমির কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল হক, পৌর সেক্রেটারি মাওলানা মাসুদ রানাসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
এমই