হোম > সারা দেশ > রংপুর

সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

উপজেলা প্রতিনিধি, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়)

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে খড়খড়ি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। এক দফা সময় বাড়িয়েও এখনো ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ আশপাশের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বর্ষা শুরু হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে স্থানীয়দের।

শুক্রবার (৮ মে) সরেজমিন সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পিলার নির্মাণ শেষ হয়েছে। একটি স্প্যান বসানো হলেও ধীরগতিতে চলছে অন্য স্প্যানের কাজ। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। আগে চলাচলের জন্য সেতুর পাশে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও নির্মাণকাজের সময় সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নারী, বয়স্ক ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকার খড়খড়ি নদী পার হয়ে ইউনিয়নের ৪, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাদশা বাজার ও ভবানীগঞ্জ এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের এটি অন্যতম সহজ পথ। এছাড়া শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়।

সাদেক নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, এখন নদীতে পানি বেড়েছে। স্কুলে যাওয়ার সময় অনেক কষ্ট হয়। কাপড় ভিজে যায়, পানির কারণে হাত-পা চুলকায়।

স্থানীয় যুবক মাজেদুল ইসলাম বলেন, দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল, অথচ তিন বছর হয়ে গেল এখনো শেষ হয়নি। যাতায়াতের কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। নদীতে পানি বেড়েছে, কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে।

আলমগীর নামে এক ভ্যানচালক বলেন, পানি বেড়ে যাওয়ায় ভ্যান নিয়ে বাসায় যাওয়া যায় না। ফসল পারাপার করতেও অনেক কষ্ট হয়। বর্ষাকাল চলে আসছে, আপাতত একটা বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দিলে চলাচল করতে সুবিধা হতো।

দেবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘IRIDP-3’ প্রকল্পের আওতায় খড়খড়ি নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ধেক কাজও সম্পন্ন করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখনো সেতুর ৭০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি।

চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট উপ-ঠিকাদার রাসেল ইসলাম বলেন, এই কাজটি মূলত বরিশালের এক ঠিকাদার পেয়েছিল। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় সরকার পতনের পর তিনি অনেক দিন কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে আমাকে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, উমেষের ডাঙ্গায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করছি। অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্য একটি অস্থায়ী সেতু করার ব্যবস্থা নিয়েছি।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, এলাকাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টিআরের টাকা আত্মসাৎ, ১৬ প্রকল্প নিজের কবজায়

নির্বাচনের আগে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি, ভোট শেষে স্বপ্নভঙ্গ

র‍্যাবের অভিযানে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নবাবগঞ্জে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু

তেঁতুলিয়ার শালবাহান তেলের খনির অজানা রহস্য, নানা প্রশ্ন

বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ, একদিন পর মিলল গলাকাটা লাশ

আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর সমবায় ব্যাংক নিয়ে তদন্ত শুরু

সাঘাটায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ

রাজিবপুরে ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক

আত্মগোপনে থাকা ঢাকার শ্রমিক লীগ নেতা জর্দা শামীম রংপুরে গ্রেপ্তার