গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের পালপাড়ার শত বছর আগের মৃৎশিল্পের অতীত ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছেন নারী কারিগররা। অধিক পরিশ্রম করে লাভ কম হওয়ায় এই মৃৎশিল্পের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পালপাড়ার পুরুষ কারিগররা বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এছাড়াও প্লাস্টিক পণ্যের ভিড়ে মাটির জিনিসের কদর কমে আসায়, হারিয়ে যাচ্ছে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি। এর পরেও একেবারে ছাড়তে না পেরে কোনোরকমে বাপ-দাদার পুরোনো এই পেশা লোকসানের মুখেও কোনোরকমে টিকিয়ে রেখেছেন নারীরা।
জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ-গোবিন্দগঞ্জ পাকা সড়কের কোচাশহর বন্দর সংলগ্ন উত্তর পার্শ্বে পালপাড়ার অবস্থান। প্রায় ১০০ বছর আগে থেকে এখানকার মাটি দিয়ে তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, চারি, সাংকী, ডগা, বাটনা, ল্যাট্রিনের পাট, মাটিখড়া (তস্তা), পয়সা রাখার ব্যাংক ও চাল রাখার হাড়াসহ সংসারের নানা ধরনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করত পুরুষ কারিগররা। সংসারের কাজ সামলিয়ে তখন তাদের এ কাজে সহযোগিতা করতেন বাড়ির নারীরা। পালপাড়ার ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের মাটির তৈরি এসব সামগ্রী এখান থেকে চলে যেত দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তখনকার দিনে ঘর গৃহস্থালিতে ব্যবহারের জন্য মানুষের কাছে এখানকার মাটির তৈরি সামগ্রীগুলোর অত্যন্ত কদর ছিল। সে সময় চাহিদার ওপর নির্ভর করে উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের পূর্ব বানিহালী পালপাড়া এবং মাটিলা গ্রামেও মাটির তৈরি এসব সামগ্রী বানানোর বিশাল কারখানা।
এ ব্যাপারে কোচাশহর পালপাড়ার মমতা রানি পালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তিনি শিশুকালে পুতুল খেলার বয়সে বাবার বাড়িতে শখের বসে মাটি দিয়ে পুতুল তৈরি করতেন। বিয়ের পরে স্বামীর সংসারে এসে অর্থনৈতিক জোগান দিতে স্বামীর কাজে সহযোগিতার জন্য সংসারের কাজের ফাঁকে শুরু করেন মাটির তৈরি জিনিসের কাজ। তার হাতের ছোঁয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই কাদা মাটি থেকে তৈরি হচ্ছে সরা, টব, দইয়ের খুঁটিসহ মাটির বিভিন্ন তৈজসপত্র। কিন্তু আগের মতো বাজারে আর এসব জিনিসের চাহিদা না থাকার কারণে, এ পেশায় তিনি স্বামীকে পাশে পান না। পেটের দায়ে তিনি বেছে নিয়েছেন অন্য কাজ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) গাইবান্ধার সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্যাহ আল ফেরদৌস আমার দেশকে বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। গোবিন্দগঞ্জের পালপাড়াসহ অন্য কোনো স্থানের মৃৎ কারিগররা যদি আর্থিকভাবে ঋণ সহায়তা চায়-তাহলে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির আওতায় তাদেরকে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।