আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, তিনবিঘা করিডোর এলাকায় নতুন করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা, ভারতীয় চোরাকারবারিদের বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির ফাঁকা গুলি, বিএসএফ ড্রোন আছড়ে পড়াসহ নানাভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
তবে এবার আর কোনো ছাড় নয়, বিএসএফর অবৈধ তৎপরতা রুখে দিতে সীমান্ত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালনকারী লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি ও রংপুর ৬১ বিজিবি তিস্তা-টু এর সদস্যরা সীমান্তে কড়া নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
জানা গেছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে লালমনিরহাট সীমান্তে দুই বাংলাদেশী নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সীমান্ত এলাকার অধিবাসীরা রয়েছেন আতংকে।
সর্বশেষ ১৪ মে বৃহস্পতিবার ভোর লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি বিওপির সীমান্তবর্তী এলাকায় খাদেমুল ইসলাম (২৪) নামের এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয় । এর আগে ৮ এপ্রিল লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে আলী হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এতে সীমান্ত এলাকার লাগোয়া গ্রামগুলোতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে বিজিবি সদস্যরা, এবার বিএসএফের আগ্রাসি তৎপরতা রুখতে রুখে দিতে গ্রহণ করে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।
বিএসএফের গুলি করে বাংলাদেশি হত্যা, ধরে নিয়ে যাওয়া ও নির্যাতন, জোর করে কাটাতারের বেড়া নির্মাণের ঘটনা যেন বন্ধ হচ্ছেই না। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভারত বাংলাদেশের ওপর যেন আরো প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে।
ভারত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সীমান্তে মৃত্যু শূন্যে আনার বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ হয়নি । তবে বিএসএফের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জবাবদিহির বাইরে থাকার কারণেই মূলত সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক আইন কোনো বাহিনীকে বিশ্বের কোথাও নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের গুলি বা নির্যাতন করার অনুমতি দেয় না। সীমান্তে আর গুলি চালাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয় বিএসএফ। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আর রক্ষা হয় না। এসব হত্যাকাণ্ডের একটিরও বিচার হয়নি।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাভাষি মুসলমানদের ভারতীয় পুলিশ আটক করে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দিচ্ছে। বিএসএফের হেফাজতে থাকা শত শত মানুষকে পুশইন করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর এই অবৈধ তৎপরতা রুখতে বিজিবি রাতদিন কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। মাইকিং করা হচ্ছে সীমান্ত এলাকায়, ‘হুঁশিয়ার সাবধান’ কেউ যেন অবৈধভাবে বর্ডার অতিক্রম করার চেষ্টা না করে।
এমএইচ