হোম > সারা দেশ > রংপুর

গোবরের লাকড়ি এখন আয়ের উৎস

ইমদাদুল হক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

জ্বালানি কাঠের দাম বাড়ায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গোবরের লাকড়ির চাহিদা এখন ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব লাকড়ি। সেই সঙ্গে গোবরের লাকড়ি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন অনেক অসহায় পরিবার। অনেকের আয়ের উৎস এখন গোবরের লাকড়ি তৈরি। উপজেলার সবত্রই কাঁচা-পাকা রাস্তার ধারে এখন শোভা পাচ্ছে এসব লাকড়ি শুকানোর দৃশ্য। কমবেশি সারা বছর এ ধারা অব্যাহত থাকলেও বিশেষ করে শীতকালে লাকড়ি তৈরির চাহিদা অনেক বেশি।

উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার আনাচে-কানাছে এবং গ্রামগঞ্জের রাস্তাগুলোতে গোবরের লাকড়ি তৈরি এবং শুকানোর দৃশ্য যেন চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন অসহায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোচারণ ভূমিতে এখন আর গরু চড়ান না গরু মালিক ও খামারিরা। গ্রামের হাতেগোনা কিছু গরু মালিক রাস্তার ধারে গরু চড়ান। সেই গরুর গোরব সঙ্গে সঙ্গে আবাদি জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন তারা। এখন বেশির ভাগ গরু গোয়ালঘরে লালনপালন করেন মালিকরা। সে কারণে অনেক অসহায় পরিবারের নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা শ্রমের বিনিময়ে গোবর নিয়ে আসে বা সামান্য টাকা দিয়ে গোবর কিনে এনে লাকড়ি তৈরি করে তা বিক্রি করছেন এবং সেই সঙ্গে নিজে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করছেন।

দহবন্দ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের শুকলাল বালা বলেন, তিনি একজন গরু মালিকের বাড়ি থেকে শ্রমের বিনিময় গোবর নিয়ে এসে লাকড়ি তৈরি করে বাজারে বা চায়ের দোকানে বিক্রি করে সংসার চালান। সেই সঙ্গে নিজে রান্নার কাজে ব্যবহার করেন। তিনি আরো বলেন, পাটকাঠি, ভুট্টা ও বাঁশের কঞ্চির মধ্যে গোবরের আস্তর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করা হয়। অনেকে কাঠের গুঁড়া মিশ্রিত করে লাকড়ি তৈরি করেন। প্রতিটি লাকড়ি তৈরি করতে প্রায় দুই টাকা খরচ হয়। বাজারে বা চায়ের দোকানে প্রতিটি লাঠি বিক্রি হয় চার হতে পাঁচ টাকায়।

কাপাসিয়া চরের রাশেদা খাতুন বলেন, তিনি তার নিজস্ব গরুর গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করেন। তাকে শুধু পাটকাঠি কিনে আনতে হয়। শীতকালে লাকড়ি শুকাতে অনেক সময় লাগে। তিনি বাজারে বিক্রি করেন না, বর্ষাকালে রান্নাবান্না করার জন্য খড়ি ঘরে মজুত করে রাখেন। এতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।

পৌরসভার মনজু মিয়া বলেন, তার দুটি গরু রয়েছে। ভালো গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি করেন। আর ময়লা আবর্জনাযুক্ত গোবর আবাদি জমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করেন। রান্নাবান্নার জন্য সারা বছর এ গোবরের লাকড়ি ব্যবহার করা হয়। গ্যাস কেনার প্রয়োজন হয় না। শিশু সাহিত্যিক কঙ্কন সরকার বলেন, এটি দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। আগেরকার মানুষ গোবরের লাড্ডু তৈরি করে গোয়ালঘরে মশা তাড়ানো বা ঠান্ডার দিনে গোয়ালঘর গরম রাখার জন্য আগুন জ্বালিয়ে রাখত।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার বিপ্লব কুমার দে বলেন, গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস, জৈব সার ও লাকড়ি তৈরি করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ইদানিং গোবরের লাকড়ি তৈরির প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এটি গ্রামগঞ্জে অনেকটা জ্বালানির চাহিদা পূরণ করছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, গরুর গোবর দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করা হয়। এছাড়া জৈব সার হিসেবে আবাদি জমিতে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে গোবরের লাকড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা বর্ষাকালে কাঠের খড়ির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

কাউনিয়ায় ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

বিএনপির কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

তারাগঞ্জে জোড়া খুনের আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

জামায়াতে যোগ দিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ

ঠাকুরগাঁওয়ে মৃদু ভূমিকম্প

অগ্নিকাণ্ডে প্রিন্টিং প্রেসসহ গাইবান্ধার ৫টি প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত

গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে: অ্যাডভোকেট আবু তাহের

ইটভাটার কারণে পাঁচ গ্রামে জনজীবন দুর্বিষহ

গাইবান্ধায় ‎স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকের উপর হামলা, ভাঙচুর

সাবেক চেয়ারম‍্যান ও আ.লীগ নেতা আটক