হোম > সারা দেশ > রংপুর

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ডালিয়া ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়

আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের একটি ছোট্ট গ্রাম ডালিয়া। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই জনপদ এক সময় ছিল পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তিস্তা ব্যারাজ, নদীর মনোরম পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি আর বৈচিত্র্যময় নুড়িপাথরের সমাহারে ডালিয়া যেন প্রকৃতির জীবন্ত ক্যানভাস। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে সেই জৌলুস। যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিলে ডালিয়া আবার হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রÑএমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

বাংলা ১৩৪০ সনের রেকর্ডে ডালিয়া নামটির উল্লেখ পাওয়া যায়। নামের উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মত। কেউ বলেন, এ অঞ্চলে প্রচুর ডাল উৎপাদন হতো বলে নাম হয়েছে ডালিয়া। আবার কারও মতে, স্থানীয় লোকজন ডালিতে করে মাটি কাটতেন, সেখান থেকেই নামটির উৎপত্তি।

স্থানীয় শিক্ষক ও গবেষক আবুল হোসেন শাহের মতে, অতীতে আমু রাজা নামে এক রাজা এখানে ডালিয়া ফুলের চাষ করেছিলেন, সেই থেকেই এ গ্রামের নাম ডালিয়া। তবে সব বিতর্ককে ঝেড়ে প্রকৃতির এক অনন্য মানসকন্যা ডালিয়া।

ডালিয়ার বুক চিরে বয়ে গেছে তিস্তা নদী। এ নদীর উজানের প্রবল স্রোত নিয়ন্ত্রণ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে এখানে নির্মিত হয়েছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ। প্রকৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনা যেমন কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তেমনি এর আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটনের জন্যও অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

ডালিয়ার মাটির নিচে রয়েছে বৈচিত্র্যময় নুড়িপাথরের ভান্ডার। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে এসব পাথর পরিবহন করা হয়, যা ডালিয়াকে দেয় এক ধরনের কর্মচাঞ্চল্য। তিস্তা ব্যারাজের পাড় ও নদীর ধারে ছড়িয়ে থাকা পাথর আর সবুজ মাঠ মিলিয়ে ডালিয়ার রূপ যেন নতুন করে ধরা দেয়। প্রকৃতিপ্রেমী কিংবা ভ্রমণপিপাসু যে কেউ এখানে এসে মুগ্ধ হতে বাধ্য।

সকালের স্নিগ্ধ রোদে ডালিয়াকে হাসতে দেখা যায় কোনো এক সুন্দরী-চপলা গ্রাম্য মেয়ের অবয়বে। যেন মুক্তার দানার মতো দাঁতগুলো বের করে হাসছে আর প্রকৃতিপ্রেমী কোনো পর্যটককে ডাকছে। সে স্বপ্ন দেখছে মিস পর্যটককন্যা হওয়ার জন্য। শুধু প্রয়োজন কারও কাছ থেকে একটি লাল টিপ, যা তাকে দেবে পর্যটককন্যার স্বীকৃতি।

এক সময় এ সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসতেন। এমনকি আকাশপথে হেলিকপ্টারেও পর্যটকদের আগমন ঘটত। সে সময় নির্মাণ করা হয়েছিল একটি হেলিপ্যাড, অবসর ভবন ও কুসুম কুঞ্জ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব স্থাপনা আজ প্রায় পরিত্যক্ত।

অতিথি আপ্যায়নে ডালিয়া ছিল খুবই যত্নশীল। কোনো অতিথি এলেই তাকে নিয়ে যাওয়া হতো তিস্তা নদীর দক্ষিণ পাড়ে মনোরম পরিবেশে (টালির ছাউনি ঘেরা) অবসর ভবনে। নদী থেকে ভেসে আসা হিমেল হাওয়ায় প্রাণ জুড়িয়ে যেত ক্লান্ত অতিথির। তিস্তা ব্যারাজের সিলট্রাপ, আধুনিক কন্ট্রোল টাওয়ার এবং ধুম সাইফুনের প্রকৌশল কাঠামোও দর্শনার্থীদের কাছে এখনো আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলে ব্যারাজের ওপর জ্বলে ওঠা বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানিতে পুরো এলাকা ভিন্ন রূপ পায়।

সব মিলিয়ে সৌন্দর্যের কোনো ঘাটতি নেই ডালিয়ায়। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ। যদি ডালিয়াকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

প্রকৃতির অপার সম্ভাবনা নিয়ে ডালিয়া যেন আজও অপেক্ষায়Ñআবার পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠার।

ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রংপুরে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল, ৩ দফা দাবিতে সমাবেশ

রেলস্টেশনে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ১ মাসের কারাদণ্ড

ফুয়েল কার্ড চেক করার সময় ইউএনওর ওপর হামলা, আহত বডিগার্ড

তেলবিহীন দুই সপ্তাহ, থমকে গেছে কুড়িগ্রামের জনজীবন

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি–রপ্তানি শুরু

১৫ ঘণ্টা পর আবারও বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রতিমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট, কলেজছাত্র আটক

ব্লেন্ডার মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছে আট জেলার মানুষ