রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঝর্ণা বেগমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ঈদুল ফিতরের ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝর্ণা বেগম নিয়মিত ভিজিএফ চাল, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ও বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা আত্মসাৎ করতেন। অনেক সুবিধাভোগী বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও চাল পাননি। কারও নামে চাল উঠলেও তারা স্লিপ পাননি। ভাতার কার্ড বা ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ঘুষ দিতে হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা গণস্বাক্ষরসহ লিখিতভাবে এসব অভিযোগ ইউএনও দপ্তরে জমা দেন।
পঙ্গু নাজমূল ইসলাম বলেন, `আমার নাম তালিকায় ছিল, কিন্তু কোনো স্লিপ পাইনি। পরে শুনি, আমার নামে চাল উঠেছে।'
অনুরূপ অভিযোগ করেছেন শাহাজুল ইসলাম, ছাবেরা বেগম ও মমতাজ বেগম। বিধবা রওশনারা বেগম জানান, `৪০ দিনের কাজ দেওয়ার আশ্বাসে ৪ হাজার টাকা এবং বিধবা ভাতার জন্য আরও ১ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু কিছুই পাইনি।'
এ বিষয়ে ঝর্ণা বেগম বলেন, `মোক বেইজ্জত করেন না ভাই। এগুলা বিষয় নিয়া বাড়াবাড়ি করি মোক বিপদোত না ফেলান।'
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ ব্যবস্থা নেয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর তারা সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের এ পদক্ষেপে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে শুধু বরখাস্ত নয়, ঝর্ণা বেগমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।