হোম > সারা দেশ > রংপুর

‘স্বর্গ-নরক’খ্যাত কবির বাড়ি অযত্ন অবহেলায় ধ্বংসপ্রায়

হাসান উল আজিজ, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে কবি শেখ ফজলল করিমের বাড়ি

‘কোথায় স্বর্গ/কোথায় নরক কে বলে তা বহুদূর/মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক/মানুষেতে সুরাসুর’ কবি শেখ ফজলল করিমের এ মর্মস্পর্শী কবিতাটি মোটামুটি সবারই পড়া। সেই কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি আজ অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। সংস্কার না করায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এটি।

লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক ধরে লালমনিরহাট শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার গেলে কাকিনা বাজার। বাজার পার হয়ে প্রায় ৩০০ মিটার সামনে গিয়ে হাতের ডানে খানিকক্ষণ হাঁটলেই ‘কবিবাড়ি’। বাড়ির উঠানের একপাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন কবি শেখ ফজলল করিম।

বাড়িটিতে গিয়ে দেখা গেছে, আধাপাকা টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষে এখনো রয়েছে কবির কিছু স্মৃতিচিহ্ন, যেগুলো যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্টের উপক্রম। সেখানে রয়েছে কবির ব্যবহৃত চেয়ার, খাট, টুপি, দোয়াত-কলম, ছোট একটি কোরআন মজিদ। বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থী এলে বাড়িতে থাকা কবির এক নাতবউ ঘরটি খুলে দেন। সেখানে নেই দর্শনার্থীদের জন্য বসার সামান্য ব্যবস্থাটুকুও। কবির স্মৃতি বা বাড়িটি দেখভালের মতো উল্লেখযোগ্য কেউ নেই বাড়িতে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক স্কুলশিক্ষক মফিজুল হক বলেন, লালমনিরহাট জেলার গর্ব কবি শেখ ফজলল করিমের স্মৃতি রক্ষায় এখনই সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাঠাগারটি যেমন নতুন করে চালু করা দরকার, তেমনি প্রয়োজন একটি জাদুঘর তৈরি করা।

কথা হয় কালিগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু তালেব মিলুর সঙ্গে। তিনি বলেন, কবির তিন প্রজন্ম শেষ হয়ে গেছে, এ জন্য স্মৃতিরক্ষায় সরকারি উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। এছাড়া কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সংস্কারের অভাবে আর অযত্ন-অবহেলায় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তিনি এটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

কবির বাড়ির পুকুর পাড়ে বসে থাকা কোরবান আলী (৭০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কবির জন্ম ও মৃত্যু দিবসে স্থানীয়ভাবে মাঝে মধ্যে হয়তো ছোটখাটো কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরপর কেউ আর খবর রাখে না। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন তার চিহ্ন হারিয়ে যাবে।

শেখ ফজলল করিম ১৮৮৩ সালের ১৪ এপ্রিল কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ছিল মোনা। বাবা আমীরউল্লা সরদার আর মা কোকিলা বিবি। গ্রামের লোকজন তাকে ডাকত ‘কবি সাইব’ বলে। তার দাদা জশমতউল্লা সরদার ছিলেন কাকিনা রাজবংশের একজন প্রসিদ্ধ কর্মচারী।

ফজলল করিমদের পরিবার ছিল একান্নবর্তী। মানে আত্মীয়-পরিজন মিলে এক বিশাল পরিবার। বনেদি পরিবারের বাড়ির আদল যেমন হয়, তেমনি ছিল তাদের বাড়ি। সেই বাড়ির প্রশস্ত কাছারি ঘরের মাঝামাঝি একটি বিরাট টেবিল ছিল। তাতে থাকত শৌখিন দোয়াতদান ও পাখার নানা ধরনের কলম। তখনকার দিনে পাখার কলমে লেখার প্রচলন বেশ জনপ্রিয় ছিল। এই বিরাট টেবিলেই, ঝকঝকে লণ্ঠনের আলোয় পড়াশোনা করতেন কবি শেখ ফজলল করিম। লিখতেনও এখানেই। মধ্যরাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে পড়াশোনা করতেন তিনি।

বয়স পাঁচ বছর হতে না হতেই কবি বাড়ি থেকে পালিয়ে স্কুলে ছুটে যেতেন। পরে তাকে কাকিনা ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করানো হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে তাকে রঙ্গপুর (রংপুর) জিলা স্কুলে ভর্তি করা হয়। এরপর কিছুদিন তিনি ঘরেই শিক্ষাগ্রহণ করেন। পরে আবার ভর্তি হন কাকিনা স্কুলে। সেখান থেকেই ১৮৯৯ সালে মাইনর পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। মাইনর পাসের পর তিনি পুনরায় রঙ্গপুর জিলা স্কুলে ভর্তি হন।

প্রথমে কবির ইচ্ছা ছিল ডাক্তারি পড়ার। সে জন্য তিনি কাকিনা গভর্নমেন্ট ডিসপেনসারির ডাক্তার সরদাচরণ মুখোপাধ্যায়ের অধীনে পড়তেও শুরু করেন। ডাক্তারখানায় অনুশীলনও করতেন। কলকাতার কম্বেল স্কুলে পড়তে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন কলকাতায় প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তার বাবা তাকে আর কলকাতায় যাওয়ার অনুমতি দেননি। তিনি বিলাতে ব্যারিস্টারি পড়তেও যেতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সে আশাও পূর্ণ হয়নি তার। ফজলল করিমের ইংরেজি ও বাংলা হাতের লেখা খুব সুন্দর ছিল।

৫৪ বছরের জীবনকালে কবির রচনার সংখ্যা নেহাত কম না। তার প্রকাশিত-অপ্রকাশিত ৫৫টি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পরিত্রাণ কাব্য’ (কাব্য), ‘প্রেমের স্মৃতি’ (নাট্যকাব্য), ‘তৃষ্ণা’ (কাব্য), ‘লাইলী মজনু’ (গদ্য) প্রভৃতি। ছোটদের জন্যও তিনি বেশ কিছু বই লিখেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হারুন অর রশীদের গল্প’ (১৯১৬), ‘সোনার হাতি’ (গদ্য গ্রন্থ, ১৯১৮), ‘কুসুম কলি’, ‘চমচম্’ (কবিতা) প্রভৃতি। বাংলার নিভৃতপল্লির এই কবি আজ নেই। তবে তার রচনাগুলো আজও বাংলা সাহিত্যে অমলিন। সংরক্ষণের অভাবে যার অনেকগুলোর এখন আর হদিস মিলছে না। বাংলা ১৩২৩ সনে ভারতের নদীয়া সাহিত্য পরিষদ তাকে সাহিত্য বিশারদ উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯৩৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কবি শেখ ফজলল করিম শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে আছে তার গ্রামের বাড়িটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, কবি শেখ ফজলল করিমের কাকিনা গ্রামের বাড়ি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলেই বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সীমান্তে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যাক্তিকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

গাইবান্ধায় গৃহবধূকে হত্যা মামলার ৩৯ দিন পর আসামি গ্রেপ্তার

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত, সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন

আমার দেশ পত্রিকার ডিমলা প্রতিনিধি রফিকুলের পিতার ইন্তেকাল

রংপুর মাউশি কার্যালয়ের ঘুস কেলেঙ্কারি ধামাচাপার চেষ্টা

ধান কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল কৃষকের

রাণীশংকৈলে কমিউনিটি ক্লিনিকে নেই পরিবারপরিকল্পনা সামগ্রী, হতাশ গ্রামীণ নারীরা

ফুলবাড়ীতে পৃথক অভিযানে মাদকসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

তিস্তামুখঘাট-বাহাদুরাবাদে সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন