লালমনিরহাটে নকশা জটিলতায় রত্নাই নদীতে সেতু নির্মাণের ধীরগতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী। জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কে রত্নাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের তৃতীয় ধাপ পার হলেও এখনো শেষ হয়নি। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন পুরাতন সেতুটি দিয়ে হাজারো মানুষ চলাচল করছে। নির্মাণাধীন এই সেতু প্রকল্পে নকশা জটিলতাসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয় ধাপ সময় বাড়ানোর পর মন্থরগতিতে চলছে সেতুর নির্মাণকাজ। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম সংযোগ সড়কের কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর পুরোনো বেইলি ব্রিজ থেকে পশ্চিমে একটি নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ১৩০ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ পায়। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি লিমিটেড ।
জানা গেছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২০২৩ সালের ৮ মার্চ নতুন সেতু প্রকল্পটি নিয়ে কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি লিমিটেড কাজ শুরু করেন। তৃতীয় দফায় সময় বাড়ানো পরও সেতুটির নির্মাণাধীন কাজ লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ সেতুর নির্মাণকাজ তদারকি করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ সেতুটির কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে মূল সেতুর কাঠামো দৃশ্যমান। নতুন সড়ক সেতুর কাজ শেষ না হওয়ার ফলে ঝুঁকিতে থাকা পুরাতন ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছেন দুই জেলার মানুষ। এরই মধ্যে সংযোগ সড়কের নকশা জটিলতাসহ একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। স্থানীয়রা বলছেন, ছয়শ ফুট রিটার্নিং ওয়ালের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে প্রায় ৩০০ ফুট নির্মাণ করা হয়েছে। একইভাবে প্রায় ৩২ হাজার ঘনফুট বোল্ডার ব্যবহারের বাজেট থাকলেও সেখানে মাত্র ১৫ হাজার ঘনফুটের মতো বোল্ডার ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, নকশা উপেক্ষা করে বাঁকানো অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
ওই এলাকার বাসিন্দা আবু বকর বলেন, সেতুটি না হওয়ায় আমাদের জরাজীর্ণ বেইলি ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে লালমনিরহাট জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে আমরা উপকৃত হব।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী এসএম রেজা মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। নির্দেশনা পেলেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা জানান, সেতুটির কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সচল করা হবে ।