রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন পীরগাছা উপজেলার ১নং কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদের অপসারিত ও পলাতক চেয়ারম্যান নুর আলম। সোমবার রাত পৌনে ১০টায় মাহিগঞ্জ থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নুর আলম (৫৬) কল্যাণী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও এলাকায় তার ‘পোষ্যপুত্র’ হিসেবে পরিচিত। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন।
মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার ওসি মাইদুল ইসলাম জানান, নুর আলমের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নুর আলমের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কল্যাণী ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে। গভীর রাতেই ইউনিয়নের বিভিন্ন মোড়ে লোকজনকে আনন্দ ফুর্তিতে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ এক দশক নুর আলম এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব পরিচালনা করতেন।
লুটপাট ও দুর্নীতির ভয়াবহ অভিযোগ
নুর আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের পাহাড়সম অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা।
কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, নুর আলম চেয়ারম্যান থাকা কালে ক্ষমতার দাপটে সরকারি রাস্তার অন্তত দেড় কোটি টাকার গাছ অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন। এছাড়া হাট-বাজার ও ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়ন প্রকল্পের কয়েক কোটি টাকা কোনো কাজ না করেই পকেটে পুরেছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর একটি সাজানো বোমাবাজির মামলায় নুর আলম তাকে রিমান্ডে পাঠিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। আরেক ভুক্তভোগী আঙ্গুর মিয়া জানান, রাজনৈতিক মামলায় তার নাম দিয়ে, সেই মামলা নিষ্পত্তির নিমিত্তে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতার নামে টাকা নিয়েছে। এছাড়াও পুলিশের মাধ্যমে হয়রানি করে ব্যবসায়ীকভাবে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করে তাকে পথে বসিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহীন মির্জা সুমন বলেন, "নুর আলম আইনকানুনের তোয়াক্কা করতেন না। ইতিপূর্বে পীরগাছা ইউএনও এবং রংপুরের ডিসির কাছে তার দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
পীরগাছার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নুর আলমের গ্রেফতারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ দাবি জানিয়েছেন, কেবল হত্যা মামলা নয় নুর আলমের বিগত ১০ বছরের দুর্নীতি, দখলবাজি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে যেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যথাযথ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে।
এএস