আমি বলি না, দুষ্ট মানুষেরা বলে, পর্যাপ্ত বয়স হওয়ার পরেও ফখরুল সাহেব নাকি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি। দুষ্ট লোকেরা এ-ও বলে, ফখরুল সাহেবের পিতা নাকি এ এলাকার বিখ্যাত রাজাকার ছিলেন।
মঙ্গলবার বিকালে ঠাকুরগাঁও গড়েয়ায় ১১ দলীয় জোট জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় জাগপা মুখপাত্র প্রধান রাশেদ প্রধান এমন মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে নাকি দেশ আফগানিস্তান হয়ে যাবে।
কিছুদিন আগে বলেছিলেন পাকিস্তান হয়ে যাবে। একেক বার একেক কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুথানের মানুষ আফগানিস্তান পাকিস্তান চায় না। নতুন বাংলাদেশের মানুষ লন্ডনে পালিয়ে যেতে চায় না। নতুন বাংলাদেশের মানুষ আমরা সোনার বাংলাদেশে রুপান্তরিত করতে চাই।
ফখরুল সাহেবকে বিনয়ের সঙ্গে বলি, পরবর্তীকালে সংযতভাবে কথা বলুন। কার সঙ্গে কথা বলছেন, কীভাবে বলছেন, বুঝে শুনে বলবেন।
রাশেদ প্রধান আরো বলেন, এ দেলাওয়ার হঠাৎ করে উঠে এসে জুড়ে বসেনি। তার জীবনে সুদীর্ঘ ৫টি বছরেরও বেশি সময় জেলখানার অন্ধকার কক্ষে কেটেছে। রিমান্ডের নামে একটানা ৫০ দিনেরও বেশি সময় অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। সেই দেলোয়ার ভাই আপনাদের কাছে এসেছেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। ঠাকুরগাঁও-১ আসন আগামীর প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমানকে আমরা উপহার দেব ইনশাল্লাহ।
এই সেই এলাকা যেখানে আল্লামা দেলওয়ার হোসেন সাইদীর ফাঁসির রায় হওয়ার পর হিন্দু মুসলমান সবাই মিলে রাজপথে নেমে এসেছিল। এখানে সেদিন ৬জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। যার মধ্যে ৫জন মুসলিম ১জন হিন্দু। এমনি ভাবে ভাই ভাই আগামী ১২ তারিখ একত্রিত হয়ে আমরা দাঁড়িপাল্লাকে জয়যুক্ত করব।
তার আগে একটি কথা মনে আছে হাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে। জাগপার মুখপাত্র আরো বলেন, মিথ্যাবাদী মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির জন্য লালকার্ড দেখাতে হবে। আগের মতো ভোট কেন্দ্র দখল করতে আসবেন- এই বাংলাদেশ আর নেই। ১২ তারিখ যদি ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে আসেন, তাহলে তিতুমিরের বাঁশের কেল্লার মতো বাঁশ নিয়ে পাহারা দেবেন।
নির্বাচনি জনসভায় ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নুরুল হুদার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলোওয়ার হোসেন, জেলা জামায়াতের জেলারেল সেক্রেটারি কফিল উদ্দীন, খেলাফত মজলিসের সভাপতি আবু সাইদ।