রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার বিশাল চরাঞ্চলে এবার আগাম মিষ্টিকুমড়ার চাষে নতুন প্রাণ এসেছে। অধিক লাভের আশায় স্থানীয় কৃষকরা বর্ষা শেষে জেগে ওঠা বালুচরে আগাম বীজ রোপণ করেছেন। সময়মতো বীজ থেকে চারা গজানোর ফলে মাঠজুড়ে সবুজ চারা দোল খাচ্ছে, আর কৃষকের মুখে ফুটেছে আশার হাসি।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী জানান, বর্ষায় তিস্তার খরস্রোত অনেক জমি-ঘর-বাড়ি বিলীন করে দেয়। তবে বর্ষার শেষে তৈরি হওয়া চরই নতুন জীবিকার ভরসা। কষ্টসাধ্য এই বালুচরেও বছর ধরে শাকসবজি, বাদাম, ভুট্টা ও মিষ্টিকুমড়াই প্রধান ফসল।
চর ছালাপাকের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, বালুচরে গর্ত করে বাইরে থেকে আনা পলিমাটি ও জৈবসারের মিশ্রণে চাষযোগ্য বেড তৈরি করা হয়। প্রতিটি গর্তে তিন-চারটি করে বীজ বপন করা হয়। কিছুটা পরিচর্যা আর নিয়মিত সেচ দিলেই চারা দ্রুত বড় হয় এবং ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। চরের পরিবেশে গাছ সহজে ছড়িয়ে পড়ে, তাই মাচা তৈরির খরচও লাগে না।
তিনি জানান, প্রতিটি গাছে গড়ে ৮-১০টি মিষ্টিকুমড়া আসে, যার প্রতিটির ওজন তিন-চার কেজি। প্রতিটি কুমড়া ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকরা এবার ভালো লাভের আশা করছেন। কৃষক রাজা মিয়া বলেন, চরাঞ্চলের বালু জমিতে কম খরচে অধিক লাভের কারণে মিষ্টি কুমড়া এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ফসল। তবে সরকারি প্রণোদনা সীমিত হওয়ায় চাষাবাদ বিস্তারে সমস্যা রয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের কৃষকদের বীজ ও রাসায়নিক সার দিয়ে প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আগাম মিষ্টিকুমড়ার ফলন এ বছর ভালো হবে। তিস্তার বুকজুড়ে জেগে ওঠা বালুচরে সবুজ কুমড়া ক্ষেত এখন চরবাসীর জীবন সংগ্রামে নতুন আশার প্রতীক।