নীলফামারী জেলার অধিকাংশ পাম্পে তেল সরবরাহ না থাকায় যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। কিছু পাম্পে তেল পাওয়া গেলেও সেখানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও ১শ’ বা ২শ’ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কালোবাজারে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেয়ার পরেও জেলার দু’ একটি পাম্প ব্যাতিত সকল পাম্প মালিকগন এখনো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের ভিড় লেগেই আছে। জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।
জেলা শহরের মোটরসাইকেল চালক রাজু আহমেদ বলেন, সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরে কোথাও তেল পাইনি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, শুনেছি ১শ’ টাকার তেল দিবে।
ইজিবাইক চালক রফিক মিয়া বলেন, “গত দুই দিন ধরে ইজিবাইক নিয়ে ঘুরছি কিন্তু কোথাও তেল পাচ্ছি না। শুনলাম এখানে ১শ’ টাকার তেল পাওয়া যাবে। সেই আশায় দাঁড়িয়ে আছি।”
এ অবস্থায় ভোগান্তিতে থাকা সাধারণ মানুষ জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
জ্বালানী তেলের সংকট সৃষ্টির পিছনে পাম্প মালিকদের অব্যাবস্থাপনা ও সিন্ডিকেট অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। জেলার পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে সংগৃহীত তেল সরাসরি যানবাহনে বিক্রির পরিবর্তে লাইসেন্স বিহীন খুচরা দোকানগুলোতে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
রাতের বেলা এসব তেল বিক্রি করছেন তারা। খুচড়া দোকানগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন লিটার প্রতি ২শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে । পাম্প মালিকরা অধিকাংশ তেল এভাবেই কালোবাজারে বিক্রি করায় সংকট বাড়ছে।
জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে ডিলারদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কেউ কথা বলতে চাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পাম্পের ম্যানেজার আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “আমাদের এখানে ডিজেল সরবরাহ কিছুটা থাকলেও পেট্রোল সরবরাহ একেবারেই বন্ধ। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমরা জানি না।”
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে কৃষি কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে কৃষকরা জানান। এতে সেচের অভাবে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক শামসুল ইসলাম জানান, আমরা সংকট নয় দামের বিষয়টা দেখি, কেউ দাম বেশি নিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তাছাড়া ঈদের ছুটি থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান জানান, তেলের কোন সংকট নেই, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, সরকার রেশনিং পদ্ধতি তুলে নিয়েছে। কালোবাজারিদের ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।