প্রতি লিটার ডিজেল ২০০, পেট্রোল ৩০০ টাকা
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ হচ্ছে না এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক মটরসাইকেলসহ জ্বালানি পরিবহন গ্রাহকেরা । পাম্পে তেল পাওয়া না খেলেও খুচরা বাজারে পেট্রোল ও অকটেন লিটারপ্রতি ৩০০ টাকা ও ডিজেল ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
সাধারণ জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু খুচরা বাজারে কীভাবে তেল পাওয়া যায়? এ ঘটনায় সাধারণ চালক যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
মেসার্স হক ফিলিং স্টেশন ও শার্মিলা ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, মেইন ডিপো থেকে তেল সরবরাহ কম থাকায় তারা কয়েক দিন পর পর তেল পাচ্ছে এবং তুলনামূলকভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে না পাওয়ায় সীমিতভাবে গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টন করে তেল বিক্রি করছে ।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন।
মোটরসাইকেল আরোহী রাকিব ইসলাম বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেলের সংকট দেখিয়ে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে কিন্তু পাম্পে তেল পাওয়া না গেলেও খুচরা বাজারে পেট্রোল প্রতি লিটার ৩০০ টাকাে এবং ডিজেল ২০০ টাকা করে বিক্রি করেছে। অনেকের প্রশ্ন, তাহলে খুচরা ব্যবসায়ীরা কোথা থেকে তেল পাচ্ছেন?
শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক নাজমুল হক বলেন, চায়না ধান চাষ করার জন্য জমিতে পানির প্রয়োজন। ডিজেল দিয়ে মেশিন চালিয়ে পানি দেওয়া হয়, কিন্তু ডিজেল না পাওয়ায় জমিতে পানি দিতে পাচ্ছি না। ধান রোপণ করতে ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানের বীজ নষ্ট হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে ২০০ টাকা লিটার, কিন্তু পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ কী? আমরা সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।
পাটগ্রাম উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন পাথরবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। কিন্তু ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না থাকায় অনেক ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ভাড়া দ্বিগুণ বেড়েছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারের রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভারতীয় ট্রাকের মাধ্যমে তেল পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
জ্বালানি তেলের এই পরিস্থিতি দেখে লালমনিরহাট-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান গতকাল সারা দিন উপজেলার সব তেলের পাম্পে ও ডিপোতে গিয়ে পরিদর্শন করেন এবং কী কারণে তেল সরবরাহ হচ্ছে না তা দেখেন এবং পাম্প কর্তৃপক্ষ যেন সিন্ডিকেট করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তীকালে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল পাওয়া যায়, সে বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ওপর থেকে নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তিনি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, নির্দেশ এলে ব্যবস্থা নেবেন।