ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৩ আসনে ভোটের আমেজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। চায়ের টং থেকে অফিসের করিডর পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর মানুষ ভোট দিতে উৎসুক হয়ে উঠেছে।
এমন নির্বাচনি পরিবেশে মানুষ সত্যিই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ধীরে ধীরে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে উঠতে শুরু করেছে লিফলেট, হ্যান্ডবিল, প্রার্থীদের হাস্যোজ্জ্বল মুখের ফেস্টুন । রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাইকের প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকম নির্বাচনি প্রচারণাও নজরে পড়ছে।
জনসংযোগ, লিফলেট বিলি, দলীয় প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা, গান বাজিয়ে ও স্লোগানে স্লোগানে নিজ এলাকায় সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা।
জামায়াতের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদ বলেন, প্রচারের শুরুতেই সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এলাকায় মানুষের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ দেখা যায়, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চায়। বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশকে আমরা আরো সামনে এগিয়ে নিতে চাই।
তিনি আরো বলেন, আমরা নতুন করে কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা বা হানাহানি চাই না। আমরা চাই সহনশীলতা, নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। এ কারণেই ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছেন। ইনশাআল্লাহ, হবিগঞ্জ-৩ আসনে মানুষ বিপুল ভোটে আমাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী করবেন। নির্বাচনি পরিবেশে কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের প্রচারণায় কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি।
বিএনপির প্রার্থী জি কে গউছ বলেছেন, হবিগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনে ধানের শীষের জোয়ার শুরু হয়ে গেছে। জনগণের ঢল নেমেছে রাস্তায়। সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই মানুষ এখন বিএনপির ত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার জন্য বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছে এবং নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। জনগণ ঠিক করবে দেশ কোন দিকে যাবে। তার মালিকানা হবে ভোটের মাধ্যমে। যে সরকার তাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে, তাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে, তাদের জনগণ নির্বাচিত করবে। আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন একমাত্র বিএনপিই পূরণ করতে পারবে।