হোম > সারা দেশ > সিলেট

উপদেষ্টা ও এমপি বলয়ে রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

সিলেট-২ আসন

উপজেলা প্রতিনিধি, ওসমানীনগর (সিলেট)

বিএনপির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হলেও স্থানীয় রাজনীতির জটিল ‘দাবার চাল’ এখনও পুরোপুরি আয়ত্তে আনতে পারেননি তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের সংগঠন, জনসম্পৃক্ততা ও প্রভাবের ভিত্তিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। এই দুই ভিন্ন বলয়ের শক্তি ও কৌশলের টানাপড়েনে এ আসনের স্থানীয় রাজনীতি এখন নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রভাব বিস্তারের এক সূক্ষ্ম সমীকরণে আবর্তিত হচ্ছে। তবে হুমায়ুন কবির একাধিক সভা-সমাবেশে ‘পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত রাজনীতি’ পরিহার করে সুশাসন ও জনমুখী রাজনীতির পক্ষে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত হুমায়ুন কবির দলটির চরম দুঃসময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয়, দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী ভূমিকা রেখে নিজের অবস্থানকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করালেও স্বামী এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতির প্রতিটি বাঁকে দৃঢ়তা, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে একক নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সিলেট-২ আসনে হুমায়ুন কবির ও লুনাকে ঘিরে দুটি শক্তিশালী বলয় গড়ে ওঠে। দলটির একাধিক প্রবীণ শীর্ষনেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হুমায়ুন কবির বলয়, তাহসিনা রুশদীর লুনার নেতৃত্বাধীন উপজেলা ও পৌর বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এনিয়ে নির্বাচনের আগে বিশ্বনাথ উপজেলায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। নির্বাচনের আগে জেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে তাদের বিরোধ প্রাথমিকভাবে মীমাংসা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর রাজনৈতিক সমীকরণে আসে নতুন মোড়। হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পান। অন্যদিকে তাহসিনা রুশদীর লুনা সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মাঠের নেতৃত্বে নিজ অবস্থান পোক্ত করেন।

এরপর থেকেই রাজনীতির অঙ্গনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন, গণসংযোগ, এমনকি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই বলয়ের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি যেন নীরব প্রতিযোগিতার রূপ নিয়েছে। তবে এ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের প্রশ্নে এমপি বলয়ই এখন পর্যন্ত শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত বিভিন্ন সরকারি কমিটি, সভা ও রাষ্ট্রীয় দিবস পালনে হুমায়ুন কবির বলয়ের নেতাকর্মীদের অনেকটাই দূরে রাখা হয়েছে। বিপরীতে এমপি বলয়ের নেতাকর্মীদের একক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি সভায় তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবুও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপদেষ্টা বলয়ের কোনো প্রতিনিধির নাম না থাকায় প্রশাসনের বৈষম্যের বিষয়টিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ পরিস্থিতির জন্য নেতাকর্মীরা উপদেষ্টার এলাকায় তুলনামূলক কম উপস্থিতি, মাঠ প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতির বাস্তবতা সম্পর্কে সীমিত ধারণা, পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ঘাটতিকে দায়ী করছেন। ফলে প্রতিপক্ষ বলয় কৌশলগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং অনুসারীদের মধ্যে ধীরে ধীরে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. গয়াস মিয়া বলেন, উপজেলা পরিষদের কোনো সরকারি স্থায়ী কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা ইতিবাচক দিক নয়। সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজনীতি হলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

এদিকে গত ১৬ মার্চ উমরপুর ইউনিয়নের দয়ালং বিল থেকে খাদিমপুরমুখী বড় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে উপদেষ্টা উদ্বোধনের আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্ভোধনের নামফলক প্রচার করা হয়। যা সরকারি প্রটোকল লঙ্ঘনের শামিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করে সংবাদ প্রকাশ না করার তদবির শুরু করেন।

২০ মার্চ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ুন কবির এবং সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তবে সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব ইউএনও বা তার মনোনীত প্রতিনিধির ওপর ন্যস্ত থাকার কথা থাকলেও তা অনুসরণ না করে অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ইমরান রব্বানী সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন।

একইভাবে প্রধান অতিথির আগমনের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বিদ্যুৎ, মাইক ও আলোর ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও একজন উচ্চপদস্থ সরকারি উপদেষ্টার উপস্থিতির পর হঠাৎ ‘বিদ্যুৎ সমস্যার’ অজুহাত দেখিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রায় ভুতুড়ে পরিবেশে সম্পন্ন করা হয়। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান ইমরান রব্বানীর দুর্ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। পরে তার পক্ষে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়া দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া ঈদের আগে ও পরে কমবেশি প্রায় এক সপ্তাহ ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ এলাকায় অবস্থান করেন হুমায়ুন কবির। দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতেও যান।

গত ২৩ মার্চ বিশ্বনাথে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর অসুস্থ মা সূর্যবান বিবিকে দেখতে রামধানা গ্রামে যান। গিয়ে ইলিয়াস আলীর বাড়ির গেট ও বাতি বন্ধ পান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও ইলিয়াস আলীর অসুস্থ মা সূর্যবান বিবির সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে যান। এ ঘটনার পর দুই বলয়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

সিলেট জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ এনায়েত হোসেন বলেন, উপদেষ্টা ও এমপি যদি এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করেন তাহলে তা হবে ইতিবাচক দিক। তবে প্রশাসন যদি কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে কাউকে বেশি সুযোগ দেয় এবং কাউকে বঞ্চিত করে তাহলে তা সমন্বয় ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

সরকারের একটাই লক্ষ্য, দেশের মানুষের উন্নয়ন করা: এমরান চৌধুরী

সিলেট নগরীতে মোটরসাইকেলে তেল নিতে ৩ শর্ত

দিরাই-শাল্লাকে দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: নাছির উদ্দীন চৌধুরী

কমলগঞ্জে ট্রেন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো নয়-ছয় সহ্য করা হবে না: লুনা

গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করলেন হুমায়ুন কবির

সীমান্ত দিয়ে দুই ভারতীয় নাগরিককে হস্তান্তর

ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দেশ চালানো যাবে না: শিশির মনির

সুনামগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই বন্ধু নিহত

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সরকার যত দ্রুত বুঝবে, সংকট তত তাড়াতাড়ি কাটবে