'খেলা হবে' এমন একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় দুপক্ষের সংঘর্ষ ১জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জানা যায়, ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের ইছাকপুর গ্রামের আওয়াল নূর ও সাইদুর রহমানের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুদিন আগে আওয়াল নূরের পক্ষের একজন লোক ফেসবুক 'খেলা হবে' লিখে একটি পোস্ট করেন। এই পোস্টটি সাইদুর রহমানের পক্ষের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে। এমন ধারণা থেকে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রুপ নিয়েছে।
২৭ মে বুধবার ফেসবুক পোস্ট ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, গত দুদিন ধরেই গ্রামটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজকে বেলা ২টায় সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রুপ নিয়েছে। এতে একই গ্রামের সাইদুর রহমান গ্রুপের আনোয়ার হোসেনের ছেলে পায়েল মিয়া (১৮) নামের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং আবু সালেকের স্ত্রী তাহেরা বেগম (৩২)কে আশংকাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এতে আরো ৩-৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাইদুর রহমান গ্রুপের আমির মিয়া বলেন, দু'দিন ধরেই আওয়াল নূর পক্ষের লোকজন মারামারি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি আমরা থানা পুলিশকেও জানিয়ে রেখেছি। আজকে হঠাৎ করে আমাদের উপর আওয়াল নূরের লোকজন আক্রমণ করতে থাকে। এতে আমাদের দু'জন লোক মারা গেছে।
তবে আওয়াল নূরের গ্রুপের দাবি তাদেরকে ফাঁসাতে সাইদুর রহমান গ্রুপ লোকজন তারা নিজেরাই নিজেদের লোক মেরে ফেলেছে। আওয়াল নূর বলেন, আমাদের বাড়ি নদীর ওই পাড়ে। আমরা মারামারির বিষয়ে কিছুই জানি না। এখন হঠাৎ শুনতেছি আমাদের বিপক্ষের গ্রুপের নাকি দু'জন মারা গেছে।
এর আগে ২০০৪ সালে সাইদুর রহমানের গ্রুপ তারা নিজেদের একজন লোককে নিজেরাই মেরেছিল। পরবর্তীকালে ওই মার্ডার তাদের নিজের উপরেই পড়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনা শোনার পর পরই আমি সেখানে গিয়েছি। দু'বছর দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন প্রশাসনের লোক এসেছে আমি তাদের সঙ্গে রয়েছি।
৪নং শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার জানান, গত দু'দিন ধরেই গ্রামটিতে উত্তেজনা বিরাজ করায় আমি ফোনে তাদেরকে সাবধান হওয়ার জন্য বলে দিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথা শুনেনি। এখন শুনতেছি নাকি দু'জন মারা গেছে। কি বিষয়ে মারামারি মূল বিষয় তিনি জানেন বলে জানান।
শাল্লা থানার সেকেন্ড অফিসার (এস আই) সৈকত আলী বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আরো ৩-৪ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এমএইচ