সুনামগঞ্জের শাল্লায় পাহাড়ি ঢলে দ্রুতই তলিয়ে গেছে কৃষকদের সারাবছরের স্বপ্ন। দুই তিন দিন আগেও যেখানে ঝলমল করছিল সোনার ফসল সেখানে এখন কোমর ও গলা পরিমাণ পানি।সবচেয়ে বড় হাওর ছায়া, কালিয়ারকোটা, ভরাম, ভান্ডাবিল, ভেড়াডহর ও উদগল ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।
হবিবপুর গ্রামের বিশ্বরূপ দাস জানান, এবার সব শেষ! কিভাবে সংসার চালাবো? কিভাবে পোলামাইয়ার পড়ালেখার খরচ চালাবো এসব নিয়ে চিন্তায় এখন রাতে ঘুম হয় না। সারা বছরের খোরাক এবার পানির নিচে। ৫৩ কের জমি (২৮ শতাংশে ১ কের) চাষ করেছিলাম। কোনোমতে ১৮ কের জমি কেটেছি। কিন্তু রোদ না থাকায় সেগুলোতেও ঘেরা (ধানের চারা) উটেছে। খলায় অনেক ধানে পচন ধরেছে।
জাতগাও গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৪০ কের জমি করেছিলাম, শ্রমিক সংকটের কারনে সামান্য পরিমাণ জমি কাটছি। প্রতিবছরই উগার (ঘরে ধান রাখার স্থান) ভরে ধান তুলি। কিন্তু এইবার কোনোমতেই উগার ভরতো নায় (না)।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আনোয়ার হোসাইন বলেন, প্রতিটি হাওরের বেড়িবাঁধে এখনই স্লুইসগেট নির্মাণ করা না হলে কৃষকদের সোনার ফসল প্রতিবছরই তলিয়ে যাবে। পরিকল্পিতভাবে বেড়িবাঁধ করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত পথ সুগম করে দিতে হবে।
কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় বলেন, শাল্লা উপজেলায় এ বছর মোট ২১,৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে মে মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সকল ধান কর্তন করা যেতো। এখন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমরা প্রতিদিনই কৃষকদের কাছে যাচ্ছি। তাদের দুঃখ দুর্দশার সাথে প্রশাসনও সামিল হয়ে সমবেদনা জানাচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে কোন প্রণোদনা বা অনুদান আসলে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের হাতে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
জেডএম