সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগজুড়ে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মারা যাওয়া তিন শিশু হলো রাইয়ান, তাউসিফ ও আমায়রা। তাদের প্রত্যেকের বয়স এক বছরের নিচে। তারা সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল এবং সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, মৃত তিন শিশুর মধ্যে দুইজনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় এবং একজনের বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমেছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে সবাই সচেতন হলে সংক্রমণ আরও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৬ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে আরও একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৩২৩ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মৃত ৭২ জনের মধ্যে মাত্র চারজনের ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি ৬৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি, তাদের জন্য এ রোগ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। হামের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টিজনিত জটিলতা এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।