সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা সদর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সরকারি নথিতে চিহ্নিত ‘নকলা খাল’ পুনঃখননের দাবি জানিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়িতে খনন কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত খালের স্থানে কাজ না করে স্থানীয় প্রশাসন ব্যক্তিগত আবাদি জমি ও বসতভিটার ওপর দিয়ে খনন চালাচ্ছে, যা এলাকায় উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
রোববার (১০ মে) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিজচাউরা উত্তর গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দীন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করায় এলাকাবাসী বর্তমান সরকারকে সাধুবাদ জানায়। অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ উদ্যোগকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তাদের অভিযোগ, কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘নকলা খাল’ পুনঃখননের নামে সরকারি নথিতে নির্ধারিত স্থানে কাজ না করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও বসতবাড়িতে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তারা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের খাল খনন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হলেও এলাকাবাসীকে অবহিত না করেই ‘আমরী সুইস গেইট হতে কৃষ্ণপুরী গ্রাম পর্যন্ত’ অংশে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, আমরী সুইস গেইট থেকে কৃষ্ণপুরী গ্রাম পর্যন্ত এলাকায় অতীতে কিংবা বর্তমানে ‘নকলা খাল’ নামে কোনো খালের অস্তিত্ব নেই। সংশ্লিষ্ট জমিগুলো পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ খনন বন্ধের দাবিতে গত ৩ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ৭ মে বিতর্কিত স্থানেই খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নিজেদের ভিটেমাটি ও আবাদি জমি রক্ষাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ নিয়ে তারা নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত বলে জানান।
তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে খনন কার্যক্রম বন্ধ এবং সরকারি নথিতে নির্ধারিত প্রকৃত ‘নকলা খাল’ পুনঃখননের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ভিটেমাটি রক্ষায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন এলাকাবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিজচাউরা উত্তর গ্রামের মামুন রশীদ, আব্দুল মছব্বির, জয়নাল আবদীন, নূর হোসাইন এবং নিজচাউরা দক্ষিণ গ্রামের খলিলুর রহমান।
এএস