সিলেটে প্রখ্যাত ওলি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানের বিশাল তিনটি পিতলের ডেগ সিলগালা করার পর নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলের দিকে মাজার প্রাঙ্গণে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে একটি প্রধান দানবাক্সসহ আরও কয়েকটি ছোট দানবাক্স বসানো হয়। দানবাক্সগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি মাজারের বিদ্যমান দানবাক্সে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলো।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের এই দুই ঐতিহাসিক মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো ভক্ত অনুরাগী প্রতিদিন মাজারে অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশুসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী দান করেন।
তবে এসব দানের অর্থ কোথায় ব্যয় হয় এবং কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। সিলেট সিটি করপোরেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার অস্বচ্ছতার বিষয়টি উঠে আসে।
পরে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে ওয়াক্ফ এস্টেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মাজার ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলে মাজার কর্তৃপক্ষ তা উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানান, আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াক্ফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। যাতে জনগণের দানের টাকা স্বচ্ছতার সাথে যথাযথ কাজে ব্যয় হয়।
তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে দানের অর্থের হিসাব ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং নিয়মিত অডিট কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
এ ব্যাপারে মাজার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেননি। তবে তাদের অনুসারীরা সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করে বলেছেন, শতবছরের প্রথা এভাবে ভেঙে দেওয়া যাবে না।