হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ছাতারগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা হেমেন্দ্র দেব নাথের তিরস্কারের মাধ্যমে তিনি লঘুদণ্ড পেয়ে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বাহুবলের অলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হন।
অভিযোগ রয়েছে, অলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত, বৃহৎ মেরামত, স্লিপ ফান্ড ও প্রাক-প্রাথমিক সরঞ্জাম ক্রয়সহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের অর্থে অনিয়ম করেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হলে ২০১৯ সালের ৮ মার্চ বশিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হন। সেখানে কক্ষ সম্প্রসারণের জন্য সরকার প্রায় ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেন। পরে তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ জোনায়েদের শোকজের মুখে আংশিক কাজ সম্পন্ন করে দায়মুক্তি নেন।
স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক অভিযোগ করেন, ফারুক আহমেদ একজন বদমেজাজী, অর্থলোভী ও স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি। তার নেতৃত্বে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।
২০২৪ সালের ৫ মে মিরপুর ১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হন। এখানে যোগদানের পর থেকেই সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ৩ মে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঠদান পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কারণে মোবাইলে সংরক্ষিত ডিজিটাল কনটেন্ট দেখানোর সময়ের একটি অংশ কেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, যা দুঃখজনক।
অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোশাহিদ মিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেন। এমনকি এক সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণে মোশাহিদ মিয়া প্রকাশ্যে ফারুক আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে হবিগঞ্জ পিটিআইতে ডিপিএড কোর্সে অধ্যয়নরত অবস্থায় একই সময়ে তিনি এক বছরের পল্লী চিকিৎসক কোর্সেও ভর্তি হয়ে সনদ অর্জন করেন। সরকারি চাকরিরত অবস্থায় একই সময়ে দুটি কোর্স সম্পন্ন করা চাকরিবিধি পরিপন্থি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে না দিয়ে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন এবং পুরাতন টয়লেট ব্যবহার না হলেও ট্যাংকি ভেঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়ালেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।
প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ জানান, বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত হলে সব বেড়িয়ে আসবে কে সঠিক, কে বেঠিক।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি লিখিত আকারে অপারগতা জানালে জেলা শিক্ষা অফিসকে অবগত করেছি। এখন জেলা অফিস থেকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
জেডএম