হোম > বাণিজ্য

কৃষিঋণের ৪২% খেলাপি

রোহান রাজিব

কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের হার একসময় অন্যান্য খাতের তুলনায় কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত আগস্ট শেষে কৃষি খাতে বিতরণ করা ঋণের ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। অথচ পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে কৃষি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত জুন শেষে এ খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা বা ২৯ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ, মাত্র দুই মাসে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ২৭১ কোটি টাকা।

দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪৬ শতাংশও কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কারণে কৃষিঋণ বিতরণে সরকারও গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ মাফ করা হয়েছে। এরপরও কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতের অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা নতুন ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির নীতিমালা। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঋণের কিস্তি বা সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের মেয়াদের পরের দিন থেকেই তা ওভারডিউ বা বকেয়া হিসেবে গণ্য হবে। বকেয়ার মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ঋণকে নিয়মিত ও খেলাপি হিসেবে ভাগ করা হয়। মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে মিল রেখে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা কঠোর করায় এবং গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সুবিধা কমিয়ে আনায় কৃষিতে বিপুল পরিমাণ ঋণ একসঙ্গে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

নীতিমালা জারির আগে ২০২৪ সালের জুন শেষে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।

দুই মাসে সাত হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) কৃষি ও পল্লি খাতে ছয় হাজার ৮৫৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এ অর্থ চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছিল চার হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে দুই হাজার ৩২ কোটি টাকা বা ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এবার লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে এ খাতে মোট ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল।

এবার কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও উট পালনের মতো কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষিঋণ বিতরণের পাশাপাশি ঋণ আদায়ও বেড়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে এ খাতে সাত হাজার ৪১৯ কোটি টাকা ঋণ আদায় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ছয় হাজার ৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা বা ২২ দশমিক ২১ শতাংশ।

আগাম শীতকালীন সবজি, উত্তাপ ছড়াচ্ছে বাজারে

ভারতের শুল্কখড়্‌গের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পরামর্শ ট্যারিফ কমিশনের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১১২ ডলারের কাছাকাছি, বাড়ছে অস্থিরতা

বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে উভয় পক্ষই লাভবান হবে: আশিক চৌধুরী

যে দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে আজ

বড় মূলধনি ও অবকাঠামো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে শর্ত শিথিল

তাঁবু-আউটডোর পণ্যে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের

আওয়ামী সংগঠনগুলোর উসকানিতে গার্মেন্টস শ্রমিকরা আন্দোলন করছে

সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

সাবসিডিয়ারির ব্যবসা চালুর অনুমতি, ৮ প্রতিষ্ঠানকে সময় বেঁধে দিল বিএসইসি