হোম > বাণিজ্য > আমদানি-রপ্তানি

ইইউয়ে রপ্তানির শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে বাংলাদেশের

সোহেল রহমান

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এ সময় বাজারটিতে শীর্ষ ১০ পোশাক সরবরাহকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে সবচেয়ে বেশি। ইইউয়ের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে চলমান অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াতে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইইউয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০৮ দশমিক ৬২ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ছিল ৭৫৪ দশমিক ৪৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৪৬ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে ইইউয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৯ দশমিক ৪৭ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১৮৫ দশমিক ৭৫ কোটি ইউরো।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলো চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বিশ্ববাজার থেকে দুই হাজার ৭৭৭ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। অর্থাৎ ইইউয়ের সামগ্রিক পোশাক আমদানি হ্রাসের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি পতনের হার বেশি।

শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন থেকে ইইউয়ের পোশাক আমদানি কমেছে চার দশমিক ৭০ শতাংশ, তুরস্ক থেকে কমেছে ১৬ দশমিক ৬০, ভারত থেকে ১২ দশমিক ১০, ভিয়েতনাম থেকে শূন্য দশমিক ৭০, কম্বোডিয়া থেকে ১২ দশমিক ১৮, পাকিস্তান থেকে ১৭ দশমিক ৯৪, মরক্কো থেকে ৯ দশমিক ১২, শ্রীলঙ্কা থেকে ১৪ দশমিক ৬৮ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে কমেছে ১৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ফলে শীর্ষ ১০ সরবরাহকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে সবচেয়ে বেশি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে পরিমাণের বিচারে বাংলাদেশ থেকে ইইউয়ের পোশাক আমদানি করেছে ৪৩ কোটি ৫৯ লাখ কেজি। ২০২৫ সালের একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ কেজি আমদানি করেছিল। সে হিসাবে আমদানি কমেছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।

একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও কমেছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের প্রতি কেজির গড় মূল্য ছিল ১৫ দশমিক ৫৯ ইউরো। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরোয় নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইউনিট মূল্য কমেছে প্রায় ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তবে এ সময়েও চীনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। যদিও ইইউয়ের সামগ্রিক পোশাক আমদানি হ্রাসের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানির পতনের হার বেশি। একই সঙ্গে আমদানির পরিমাণের তুলনায় অর্থমূল্যের পতন বেশি হওয়ায় ইউনিট মূল্যেও চাপের ইঙ্গিত মিলছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এই বাজারে অবস্থান শক্ত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।

দুর্দশায় শিল্প খাত, প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে বাংলাদেশের পণ্য

ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা

ইউরোপে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

দেশের বাজারে ফের কমল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি কমেছে ৫৫ শতাংশ

উঠে যাচ্ছে ভেনামি চিংড়ি চাষের স্থগিতাদেশ

আফগানিস্তানে ওষুধ রপ্তানি করবে আল-মদিনা ফার্মা