হোম > বাণিজ্য > আমদানি-রপ্তানি

পাঁচ হাজার কোটি টাকার ফল আমদানি, তবু বাজার চড়া

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

চলতি রমজান মাস দেশি ফলের মৌসুম না হওয়ায় আমদানি করা ফলের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। রমজানে বাজার ধরতে বিপুল পরিমাণ ফল আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ফল আমদানি করা হলেও খুচরা বাজারে দাম অনেক চড়া। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি কেজির দাম অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি।

গত বছর এ সময়ে দেশে দুই লাখ ১৩ হাজার ৬০৭ টন ফল আমদানি হয়েছিল। এ বছর আমদানি হয়েছে দুই লাখ ৮০ হাজার ৯৪৪ টন। তবে আমদানি বেশি হলেও বাজারে প্রতিটি ফলের দাম বাড়তি। বাজারের এই দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই কেজিতে ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ছে।

পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে খুচরা দোকান কিংবা ফুটপাতের ভ্যানগাড়িÑসবই আমদানি করা ফলে ভর্তি। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত আমদানি হলেও কমছে না ফলের দাম। উল্টো প্রতিদিনই বাড়ছে দাম।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৫৭ কোটি টাকা মূল্যের ৮৬ হাজার ৯৯১ টন আপেল, ৫২০ কোটি টাকা মূল্যের ৪৪ হাজার ৪৫৬ টন আঙ্গুর, ৪৩৮ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ হাজার ৩১৬ টন মাল্টা এবং ৪৯৬ কোটি টাকা মূল্যের ৫৬ হাজার ৯৯৫ টন কমলা আমদানি করা হয়। ৯২৬ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ হাজার ১৮৬ টন খেজুর খালাস হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, খেজুর ছাড়া প্রতিটি ফল আমদানিতে আমদানিকারককে ১৩৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। সম্প্রতি দুই হাজার ২১১ কোটি টাকা আমদানি মূল্যের ফল এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। আর এগুলো খালাস দিয়ে রাজস্ব আয় হয়েছে দুই হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। আমদানি করা ফল এখনো বন্দর থেকে ডেলিভারি হচ্ছে। রমজান মাস পুরোটা হিসাব করলে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পণ্য ছাড়াবে, যা গত বছরের চেয়ে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বেশি।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি ফলের বাজার চট্টগ্রামের ফলমন্ডি। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকান ও গুদাম ফলে ভর্তি। বাজারের সামনে অসংখ্য ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের লাইন। কোনো গাড়িতে বাজার থেকে ফল লোড করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানোর উদ্দেশে, আবার কোনো কোনো গাড়ি থেকে ফল নামিয়ে গুদাম ভর্তি করা হচ্ছে। গাড়িগুলো এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে।

ফলমন্ডির ব্যবসায়ী মেসার্স পায়েল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী প্রশান্ত সরকার জানান, আমদানি করা ফলে বিপুল পরিমাল শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। আর পচনশীল পণ্য হওয়ায় বন্দর থেকে আগে বের করতে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়। এছাড়া সাধারণ কনটেইনারের পরিবর্তে বেশি টাকা দিয়ে ফ্রিজিং কনটেইনার ভাড়া করতে হয়। সব মিলিয়ে অন্যান্য পণ্যের চেয়ে ফল আমদানিতে পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় বাজারে দাম একটু চড়া।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম জানান, সরকার আমদানি করা ফলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে। যার কারণে ১৩৬ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। নইলে অর্ধেক দামে ফল বিক্রি করা যেত। তার দাবি, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় ফলের ওপর শুল্ক কম-বেশি করা উচিত। যেমন, এ বছর খেজুরের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। এবারের রোজা দেশি ফলের মৌসুম নয়। তাই এ সময় শুল্ক কমালে ক্রেতারা স্বস্তি পেতেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব রেফায়েত হামিম জানান, রেকর্ড পরিমাণ খালাসের পরও চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে এক হাজার ২৩৩ টিইইউএস বিশেষায়িত রেফার কনটেইনার রয়েছে। যার অধিকাংশ কনটেইনারেই ফল আছে। কারণ, ফল আমদানিতে রেফার কনটেইনারই ব্যবহার করা হয়। এই ফল বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলেও জানান তিনি। এছাড়া রোজার পর ফলের চাহিদা বাজারে কিছুটা কমবে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাবের চট্টগ্রাম শাখার সখাপতি এসএম নাজের হোসাইন জানান, প্রতিবছর রমজানের শুরুতে যে দাম থাকে, মাঝখানে এসে এক দফা বাড়ে। ঈদের আগে আরেক দফা বৃদ্ধি পায়। এক মাসে তিন দফায় দাম বাড়ানো হয় আমদানি করা ফলের। প্রশাসন বাজার মনিটরিংয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা জানান, ডিমান্ডের সঙ্গে সাপ্লাইয়ের গ্যাপ অনেক বেশি থাকায় দাম বাড়ছে। মূলত ডিমান্ডের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, রোজার শুরুতে যে পরিমাণ ফলভর্তি কনটেইনার বন্দর থেকে ডেলিভারি নেওয়া হয়েছে; এখন সেই ধারাবাহিকতা নেই। বন্দরে ফলভর্তি কনটেইনার থাকলেও বাজারে আনা হচ্ছে কম। সংকট তৈরি করে ফের ফল ডেলিভারি নেওয়া হবে। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আমদানি করা ফল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে না বলে জানান তিনি।

সহজ শর্তে ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ চায় পোশাক খাত

ট্রাম্পের শুল্কারোপে স্বস্তি পেলেও নির্ভার নন রপ্তানিকারকেরা

ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে

ছুটি শেষে হিলিতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু

মার্কিন তুলায় শুল্কমুক্ত সুবিধা, কমবে ভারতের আধিপত্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সোমবার, কমতে পারে শুল্ক

আটকে আছে রমজানের ভোগ্যপণ্য, বাজার পরিস্থিতি অনিশ্চিত

আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, প্রণোদনা দেবে সরকার

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ বাতিলের দাবি

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ