ঈদের আগে রাজধানীর বাজারে অস্থিরতা ছিল। তবে ঈদের পর গতকাল রোববার বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় পণ্যের চাহিদা কমেছে। এতে বেশির ভাগ পণ্য আগের চেয়েও কিছুটা কমে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থা আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে লোকজন রাজধানীতে ফেরত আসার পর বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
ঈদুল আজহার আগে-পরের কয়েক দিন সাধারণত লেবু, শসা, খিরা, গাজর, টমেটো, কাঁচামরিচসহ মসলাজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। এসব পণ্য সরবরাহের ঘাটতি থাকলে দাম বেড়ে যায়। তবে এবার এসব পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি।
নয়াবাজার, কেরানীগঞ্জ বউবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় এসব পণ্যের দাম বাড়েনি, বরং কিছুটা কম লক্ষ করা গেছে। গতকাল প্রতি কেজি শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। ঈদের আগেও এমন দামেই তা বিক্রি হয়েছিল।
সাধারণত ঈদুল আজহার পরপর মুরগির চাহিদা কমে যায়। ফলে দামেও এর প্রভাব থাকে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৪০-৩৫০ টাকায়। হাইব্রিড ধরনের সোনালির দাম আরো ২০ থেকে ৩০ টাকা কম। তবে লেয়ার মুরগি কিছুটা বাড়তি দামে ৩৯০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিকে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে আরো বাড়তি দামে বিক্রি হয়। ঈদের আগের সপ্তাহে ব্রয়লারের কেজি ছিল ২০০ টাকা আর ডিমের ডজন ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।
ঈদের কারণে বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি লক্ষ করা গেছে । ইলিশের মতো হিমায়িত মাছ বেশি দেখা গেছে। নতুন সরবরাহ এসেছে শুধু পাঙাশ, তেলাপিয়া, পাবদা, চিংড়িসহ কয়েক ধরনের মাছের। এর মধ্যে পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ ও পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগেও এমন দামেই সবজি বিক্রি হয়। এর মধ্যে প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, প্রতি কেজি চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ধুন্দল, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁকরোল, করলা ও বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ মসলাজাতীয় পণ্য কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, ঈদের পর নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকায় দাম কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে। এ অবস্থা আরো চার-পাঁচদিন থাকতে পারে। এরপর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি বাড়লে দাম বাড়তে পারে।
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রাজধানীর গ্রীন রোডের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, বাজারে আগের তুলনায় সবজির দোকানের সংখ্যা কম, কয়েক দোকান ঘুরে তিনি কয়েক ধরনের সবজি কিনেছেন। ঈদের আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমই মনে হয় তার কাছে।
তেজতুরি বাজারের বাসিন্দা আকলিমা বলেন, বাজারে ক্রেতা কম, তাই সবজির দাম কিছুটা কম। তবে মাছের দাম বাড়তি।