হোম > বাণিজ্য > বাজার বিশ্লেষণ

ভোজ্যতেল-মুরগির দাম বাড়লেও কমেছে সবজি ও ডিমে

বাজারদর

সরদার আনিছ

মাহে রমজান সামনে রেখে দেশের বাজারে হঠাৎ বেড়ে গেছে ভোজ্যতেলের দাম। তবে মিলমালিকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারের বাড়তি দামের প্রভাব এখনো বাজারে নেই। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোম্পানিগুলো কমিশন কমিয়ে দিয়ে কৌশলে দাম বাড়িয়েছে; এরই প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

এদিকে সরবরাহ বেড়ে কাঁচাবাজারে সব ধরনের সবজির দাম কমতির দিকে রয়েছে। মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়লেও ডিমের দাম ডজনে পাঁচ টাকা কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের সরবরাহ প্রচুর। ফলে দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোম্পানিগুলো ভোজ্যতেলে কমিশন কমিয়ে দেওয়ায় এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এছাড়া ডাল-চিনিসহ রমজানে অধিক চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহার তছলিম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের বুকিং রেট ১৫০ ডলার পর্যন্ত টনপ্রতি বেড়েছে। কিন্তু এর প্রভাব এখনো বাজারে নেই। সামনে রমজানেও বাজারে এর প্রভাব পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সংশ্লিষ্ট সত্রগুলো বলছে, দেশে বার্ষিক ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্যানুযায়ী গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলে শুধু পাম তেল আমদানি হয়েছে ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮৩ টন। এর বাইরে সয়াবিনের বীজ আমদানি করে রিফাইনারিগুলোর সয়াবিন উৎপাদন আছে।

সাধারণত রোজার মাসে প্রায় তিন লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে। কিন্তু আমদানি হয়েছে এর চেয়ে অনেক বেশি। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসেই প্রায় পৌনে চার লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় আছে তিনটি ট্যাংকার বোঝাই প্রায় এক লাখ টন সয়াবিন তেল। কিন্তু তবুও বাজারে দাম বাড়ছে ভোজ্যতেলের।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র রমজান সামনে রেখে পর্যাপ্ত ভোজ্যতেল আমদানি হলেও রহস্যজনক কারণে দাম বাড়ছে। সরকারের বাজার মনিটরিংয়ের দুর্বলতার সুযোগ অসাধু ব্যবসায়ীরা নিচ্ছেন জানিয়ে সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে সয়াবিন, পাম ও সুপার পামের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ৩০০ টাকার মতো।

আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের বুকিং রেট বেড়েছে। সয়াবিনের বুকিং রেট প্রতি টন ১১৫০ ডলার এবং পাম অয়েল প্রতি টন ১১৩০ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দেওয়ার অন্তত এক মাস পর সেই রেটের পণ্য দেশে আসে। কাজেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে এর প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই সয়াবিন, পামতেল, সুপার পাম এবং ডালের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিনের মধ্যে পাঁচ লিটারের বোতল কোম্পানি ভেদে ৯৩০ থেকে ৯৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও কোম্পানি ভেদে ২৫ টাকা কম ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ সাত হাজার ৪০ টাকা। পামতেল বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৪০ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা ১৯২ টাকায় কিনে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করেছেন ১৯৬ টাকায়। ১৬৬ টাকায় পাম তেল কিনে প্রতি লিটার বিক্রি করেছেন ১৭০ টাকায়।

দেশের সব দোকান-শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত

চাহিদার চাপে বাড়ছে মাংস-মসলার দাম, কমছে সবজি ও ডিমের

শিশুদের পছন্দ বৈচিত্র্যময় নকশার পোশাক

ছুটির দিনে বিপণিবিতানে কেনাকাটায় ধুম

বাজারে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট

সবজির দাম কমলেও বেড়েছে মুরগি ও আমদানি মসলার দাম

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক শুরু

চাহিদা কম থাকায় নিম্নমুখী নিত্যপণ্যের দাম

রমজানের শুরুতেই সারা দেশে অস্থির বাজার, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নতুন সরকারের