জানালেন ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও প্রবীণদের নিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের ও নিজেদের মাঝে সচেতনতা বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জিল্লুর রহমান।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ‘পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ -প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা জেলায় ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপনের শেষ দিন ‘প্রবীণ পুষ্টি ও দুর্যোগকালীন পুষ্টি’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। গত ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করে সিভিল সার্জন অফিস।
ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৪ বছর গড় আয়ু। এখন প্রবীণ মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। যা আগামী ২০৪০ থেকে ৫০ সালে গিয়ে পৌঁছাবে ২০ থেকে ২১ শতাংশে। অর্থাৎ আমাদের গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আমরা আমাদের সন্তান ও শিশুদের জন্য পুষ্টির কথা ভাবলেও আমাদের প্রবীণদের জন্য পুষ্টির কথা ভাবি না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানরা বাবা-মাকে অন্য দেশে বা অন্য এলাকায় বসবাস করে। মা বাবা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে কি-না খোঁজ খবরও নেয় না। ফলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতায় পড়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
শেষ বয়সে দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি পেতে তিনি কিছু সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের যেরকম আমরা খাবার খাওয়ানোর সময় সচেতন থাকে, ঠিক একই রকমভাবে নিজেদের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশিদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে, সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিতে হবে। নতুবা জাপানে যেরকম দাফন করার মতো ব্যক্তিও থাকে না। নিজের দাফনের জন্য আগেই কোম্পানি হায়ার করে রাখতে হয়। সেরকম পরিস্থিতিও আমাদের দেশে হতে পারে।
পুষ্টির উন্নয়ন কোনো একক দপ্তরের কাজ নয়, এটি পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত দায়িত্ব বলে মনে করেন সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এধরণের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। এক সপ্তাহ আমাদের যে অর্জনের মাধ্যমে সুস্থ জীবন, সুস্থ প্রজন্ম ও সবার জন্য সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করতে সারা বছর সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের পুষ্টি সপ্তাহে ঢাকা জেলা জীবনচক্রভিত্তিক পুষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে মা, শিশু, কিশোর-কিশোরী, এতিম শিশু এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজিমপুর মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের জন্য বিশেষ সচেতনতা সেশন আয়োজন করা হয়। সেখানে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাবার, আয়রন-ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ, নবজাতকের যত্ন এবং শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব আলোচনা করা হয়। স্যার সলিমুল্লাহ এতিমখানায় শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণের পাশাপাশি তাদের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
নিউ পল্টন লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর টিফিন নিশ্চিত করা এবং ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার পরিহার করার বার্তা দেওয়া হয়। এছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টি বিষয়ক কুইজ, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপনের শেষ দিন ‘প্রবীণ পুষ্টি ও দুর্যোগকালীন পুষ্টি’ বিষয়ক আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সোহানা মেহজাবীন, ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশিকুর রহমান, ডা. ফাবলিনা নওশিন প্রমুখ।