সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, গণভোটের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে দেশের সুষ্ঠু পুনর্গঠনে গণভোট অত্যন্ত জরুরি। দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, পৃথিবীর কোথাও একসাথে ভোট ও গণভোট নেওয়ার নজির নেই, এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে। তিনি বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, এখনো দেশে দুর্নীতি বিদ্যমান এবং নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই, আর সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম হাতিয়ার হলো গণভোট।
উপদেষ্টা বলেন, ভোট মানে অবাধ অংশগ্রহণ।
রাষ্ট্রের জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মানুষ চিরদিনের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে পারে। গণভোট সেই স্থায়ী কাঠামো বাস্তবায়নের মূল মাধ্যম। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, গণভোটের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে দেশের সুষ্ঠু পুনর্গঠনে এটি অত্যন্ত জরুরি।
দেশের আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ সালের তরুণ ও ২০২৪ সালের তরুণরা একই সুতায় গাঁথা, তারা অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই দুটি আন্দোলনেই তরুণ ও নারীদের সম্পৃক্ততা ছিল সবচেয়ে বড়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ৬৪ শতাংশ অংশগ্রহণ ছিল নারীদের। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে— আমাদের মেয়েরা বারবার দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছে। তাই নারীদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। আলোচনায় অংশ নেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এবং জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব। দুপুর ১টায় সভা শেষে উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ যশোর কালেক্টরেট চত্বরে গণভোটের অনুকরণীয় ভোটিংয়ে অংশ নেন।
বিকেলে উপদেষ্টা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত গণভোট প্রচার এবং ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
উপদেষ্টা বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এবং নারীর নিরাপত্তা ও শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন জরুরি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ও আস্থাশীল নির্বাচনের পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।