শিশু-কিশোরদের মধ্যে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর। দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে শিশু-কিশোরদের মেধা ও মনন বিকাশে কাজ করে যাওয়া সংগঠনটির এই কার্যক্রম ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে অনন্য অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলী আফজাল।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে সৎ, দেশপ্রেমিক ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলে বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়ে যাবে। ফুলকুঁড়ি আসরের কর্মকাণ্ড দেখে এ ক্ষেত্রে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিশু-কিশোরদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
আলী আফজাল বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দেশপ্রেমিক, সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সমাজের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ওপর। শিশু-কিশোরদের মাদকাসক্তির ঝুঁকি এবং বিভিন্ন স্থানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেমের চর্চা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নেতৃত্ব বলতে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বোঝায় না। প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে। ফুলকুঁড়ি আসর ভবিষ্যতে এমন নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। দিনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, চিত্রশিল্পী ও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও ফুলকুঁড়ি আসরের কেন্দ্রীয় সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) জয়নুল আবেদীন আজাদ।
দেশজুড়ে আসা প্রায় দুই হাজার শিশু-কিশোর, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ উপলক্ষে মাইন্ড ম্যারাথন সিজন-৩, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ১১তম জাতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব, বৃক্ষরোপণ প্রতিযোগিতা, ভিডিও ছড়াপাঠ প্রতিযোগিতা, ১০ম জাতীয় দেয়ালিকা উৎসব, অগ্রপথিক ব্যাজ প্রদান ও স্মৃতিলিখন প্রতিযোগিতাসহ মোট ১১টি বিভাগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে ২৬৭টি পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জমজমাট সাংস্কৃতিক পর্বে গান, কবিতা আবৃত্তি, পরিবেশবান্ধব কোরিওগ্রাফি, থিম সং, নাটিকা ও পাপেট শো পরিবেশিত হয়। সবশেষে শিশুতোষ মঞ্চনাটক ‘বন্দী খাঁচার পাখিরা’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২ বছরের দীর্ঘ পথচলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সংগঠনটির কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।