ট্রাইব্যুনালে শহীদের বাবা কবির হোসেন
জুলাই গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা কবির হোসেন মৃধা।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে কবির হোসেন বলেন, ‘আমি রঙের কাজ করি। আমার বাসা টঙ্গী, গাজীপুর। আমার বয়স ৫৪ বছর। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে গেলে আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে আমার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও ছেলে বিজয় মিছিলে অংশ নিতে উত্তরা বিএনএস-এ যায়। সেখানে গুলির আওয়াজ শুনে তারা একেকজন একেক দিকে দৌড় দেয়। এ সময় একটি গুলি আমার ছেলের গলার সামনের দিকে বাম পাশে লেগে পিঠের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। গুলিটা ওপর দিক থেকে আসে। তখন তার পাশে থাকা ছাত্র-জনতা তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমার মেয়ে বহুবার আমার ছেলে সানজিদের ফোনে কল দিতে থাকে, কিন্তু ফোনে তাকে পাচ্ছিল না। পরে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে আমার মেয়েকে বলে, ‘সানজিদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি আছে’।’
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আমরা হাসপাতালে গিয়ে দেখি, আমার ছেলে মৃত অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে। হাসপাতালে আমার ছেলের সঙ্গে আরও আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় ছিল। তখন ডাক্তাররা আমাকে দ্রুত লাশ নিয়ে যেতে বলেন এবং বলেন এখানে লাশ রাখা যাবে না। বাইরে প্রচুর গোলাগুলি হচ্ছিল বিধায় আমি লাশ নিয়ে বের হতে পারছিলাম না। পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে আমার ছেলেসহ আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ছেলেরা হাসপাতালের ভেতরে এসে ভাঙচুর করেছিল, যাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের কোনো চিকিৎসা না দেয়। ওই দিন গুলিতে উত্তরা এলাকায় আনুমানিক ৩৫ জনেরও বেশি শহীদ হয়।’