আগামীকাল শনিবার ১৪ জুন মিরপুর পল্লবীর নৃশংস কালশি হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পূর্তি দিবস। ২০১৪ সালের ১৪ জুন আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপি ইলিয়াস আলী মোল্লার নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ও পুলিশ শবেবরাত রাতে মিরপুর পল্লবীর কালশীতে ১২ জন উর্দুভাষী বিহারীকে পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছিল।
নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে আজও বুক শিউরে ওঠে স্থানীয় এলাকাবাসীদের। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পার হয়ে গেলেও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। খোদ সরকারি দল আওয়ামী লীগ এমপি ও তার সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকায় আজও জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার ছিল মিরপুরে বিহারি ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার আগে তাদের ঘরে তালা মেরেছিল পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশের সঙ্গেই ঢোকে সাদা পোশাকের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। এরপর শুরু হয় মুহুর্মুহু গুলি, টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং পেট্রোল ঢেলে ঘরে ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা। বিহারি পল্লীর কয়েকজন বাসিন্দা এ দৃশ্য দেখে তাদের স্বজনদের বাঁচাতে তালা ভাঙার চেষ্টা করলে তাদেরও গুলি করা হয়েছিল। এ সময় বিহারি পল্লীর ভেতর থেকে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের জোরপূর্বক আটকে রেখে মারধর করে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে সাদা পোশাকের অস্ত্রধারীরা চলে যায়।
কিন্তু আক্রমণকারী ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার না করে ঘটনা আড়াল করতে উল্টো নিরীহ বিহারীদের পর ঘটনার দায় চাপিয়ে মামলা করে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও খুনিদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবিতে শনিবার বাংলাদেশী বিহারী পুনর্বাসন সংসদ (বিবিআরএ) বিক্ষোভ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। তারা আজ শুক্রবার দলীয় কার্যালয়ে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।
বিহারি পল্লীর প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন, সারাদেশের মতো আওয়ামী লীগ তার পুরো সময় বিহারী ক্যাম্পে সাধারণ বিহারীদের উপর নির্যাতন করে এসেছে। ১৪ জুনের ওই ঘটনায় পুড়িয়ে এক পরিবারের ৯ জনকে এবং একজন গুলিতে সহ মোট ১২ জনকে মারা হয়েছিল।