ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী অসিম কুমার
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দুজনকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ চার জনের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন অসীম কুমার সরকার।
বুধাবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দি দেন তিনি। এদিন মামলার সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
জবানবন্দিতে অসীম কুমার বলেন, আমি বর্তমানে বরিশাল সদর নৌ থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসাবে কর্মরত আছি। ঘটনার সময় আমি আগৈলঝাড়া থানায় এসআই হিসাবে কর্মরত ছিলাম। ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে আগৈলঝাড়া থানায় ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, বুধার সাকিন বাইপাস মহাসড়কে কে বা কারা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দিয়েছে। আমাকে সেখানে যেতে নির্দেশ দেন তিনি । আমি সেখানে গিয়ে ঘটনার বিবরণ ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করি। তখন ওসি মুনিরুল আমাকে বলেন, ঘটনার কোনো বাদি না থাকায় আপনাকে বাদি হয়ে মামলা রজু করতে হবে। আমি মামলা করলে এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই নজরুল ইসলামকে। মামলা রুজু হওয়ার পরপরই আসামিদের ধরার জন্য পুলিশ সুপার এহসানউল্লাহ থানা পুলিশের উপর চাপ দেন। এসপির নির্দেশে এসআই নজরুল আসামি ধরার জন্য ঢাকায় যান।
জবানবন্দিতে অসীম কুমরা আরো বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি এসপি থানায় আসেন। তিনি আমাকে ওসির রুমে ডাকেন। এসপি আমাকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশ আছে, তাদের ক্রসফায়ার দিতে হবে। কাজটা তোমাকে করতে হবে। তখন আমি বলি, "স্যার আমি চাকরি ছেড়ে দিতে রাজি আছি, কিন্তু এ কাজ করতে পারবো না এবং আমাকে দিয়ে জোর করে কেউ করাতেও পারবে না। তখন এসপি চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘শালা বাইনচোদ, কিভাবে চাকরি করিসÑদেখে নেবো। প্রমোশন কোনদিনও হবে না; এসিআর-এর বারোটা বাজিয়ে দিবো।’
জবানবন্দিতে সাক্ষী আরো বলেন,‘ ২১ ফেব্রুয়ারি ওসির নির্দেশে রাত ১টারদিকে বাইপাস ব্রিজে ডিউটিতে যাই। এরপর সেখানে আগৈলঝাড়া থানার এসআই মোস্তাফিজ এবং এসআই মনোরঞ্জন আমার কাছে আসে। রাত আনুমানিক ২ টার দিকে এসপি স্যারের গাড়ি আমাদের ক্রস করে বুধার এলাকার দিকে যায় এবং পিছনে একটি মাইক্রোবাস ছিল। রাত সোয়া ২টার দিকে আমাদের থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ দিক থেকে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পাই এবং আগুনের শিখার মত কিছু একটা দেখতে পাই। সকালে ওসি জানান, রাত সোয়া ২টার দিকে গ্রেপ্তার দুই আসামি টিপু হাওলাদার ও কবির হোসেনকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমাদের আগৈলঝাড়া থানার কোনো অফিসার ও ফোর্স এ ঘটনা সংঘটনে রাজী না হওয়ায় এসপি পাশের উজিরপুর থানা থেকে এএসআই মাহবুল ও এএসআই জসিমকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়।