পাসপোর্টে অ্যারাইভাল সিল জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আফ্রিকান নাগরিককে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই সাদ্দাম হোসেনের আবেদনে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম তাদের রিমান্ড আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- নাইজেরিয়ার নাগরিক চিমারোকে ম্যাগনাস উজোইগি (২৬) ও আইভরিকোস্টের নাগরিক ফ্র্যাংক কফি (২৯)।
আগের দিন শুক্রবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের ইন্সেপেক্টর এবি এম নূর উদ্দিন বিমানবন্দর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এ দুজনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এজলাসে তোলার সময় ছবি ও ভিডিও নিতে গেলে এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও আসামিরা।
রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি শুরু হলে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসামিদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান । তখন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “আসামিরা বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন অফিসারের সন্দেহ হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসন্ধান করে ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখেছে তাদের তথ্য মিথ্যা ও পাসপোর্টে অ্যারাইভাল সিল জাল। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।”
আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম মামুন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করে বলেন, “আসামিদের একজন ফুটবলার, আরেকজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। তারা এ অভিযোগ সম্পর্কে জানেন না। সুতরাং তাদের রিমান্ড চাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। রিমান্ড বাতিল করে তাদের জামিনের প্রার্থনা করছি।”
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো.আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, শুনানি শেষে আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দুই বিদেশি নাগরিক ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসে নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়া যেতে বিমানবন্দরের ২ নম্বর বহির্গমন টার্মিনালের ২৫ নম্বর ডেস্কে যান। সেখানে পাসপোর্টের সিল সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তা যাচাইয়ের জন্য টার্মিনালের ইনচার্জকে অবগত করেন। ইনচার্জ অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি ওসি ইমিগ্রেশনের কাছে পাঠান। পরে ওসি ইমিগ্রেশন যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশ ইন্সপেক্টর এবি এম নূর উদ্দিনের কাছে পাঠান।
নূর উদ্দিন আসামিদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। আসামিরা তথ্য দেন, তারা ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসেন। তবে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাদের পাসপোর্টে থাকা ভারত ত্যাগের (অ্যারাইভাল/ডিপার্চার) সিলগুলো জাল। তারা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের যে সিল ব্যবহার করেছেন, সেগুলো বৈধ নয়। মূলত অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যে তারা পাসপোর্টে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেন।
এরপর শুক্রবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে তাদের বিমানবন্দর থেকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।