হোম > আইন-আদালত

রামিসা হত্যা মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।

যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ প্রধান আসামি সোহেল রানার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় লঘুদণ্ডের আবেদন করেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে নিজের ফ্ল্যাটের বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন। পরে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জেরা এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়।

তবে আসামিপক্ষের দাবি, মামলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। যদিও সোহেল রানা আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। সেই বিবেচনায় তার জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাওয়া হয়।

গত ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। অপরদিকে সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা চাইলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেন। মামলার বিচার চলাকালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা গোপন এবং মরদেহ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশ।

ঘটনার দিনই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

দ্রুত বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

এমবি

অভিনেত্রী তানজিন তিশার মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলা: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের আগারওয়ালা ফের রিমান্ডে

সাবেক সচিব জাহাঙ্গীরসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৫ নভেম্বর

রুপা-বাবু-শ্যামল দত্তের তদন্ত প্রতিবেদন আরো দুই মাস পেছাল

ইলিয়াস আলী গুম: জিয়াউলের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছাল

প্রধানমন্ত্রীর বাসের ছবিতে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার মন্তব্যকারী সেই যুবক রিমান্ডে

আনিসুল হকসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ, ৩ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মাদরাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

কেরাণীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

গেজেট-বঞ্চিতদের অনশন থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী আটক