হোম > আইন-আদালত

তিনজনকে দায়ী করে অভিযোগপত্র, চার্জ গঠনের শুনানি ১ এপ্রিল

সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণ

নাসিরউদ্দিন লিটন

ছবি: সংগৃহীত

তিন বছর আগে এক বিকেলে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানীর সিদ্দিকবাজারের পুরো এলাকা। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। আতঙ্কিত মানুষ যে যেভাবে পারছে দিগ্বিদিক ছুটছেন। এরই মধ্যে ‘ক্যাফে কুইন’ ভবনের ভেতরে ও বাইরে থাকা ২৬টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। আহতদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।

নর্থসাউথ রোডের সাততলা ‘ক্যাফে কুইন’ ভবনের সেই বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ে ভবনের ৯টি কলামসহ দুটি ফ্লোর। বিস্ফোরণে ভবনে থাকা বিভিন্ন দোকানের কর্মচারীসহ প্রাণ হারান রাস্তায় থাকা যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীও। ঘটনার দিনই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল বিস্ফোরণের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার দুই দিন পর ৯ মার্চ ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগ এনে মামলা করেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাহা। আলোচিত এ মামলায় প্রথমে তদন্ত শুরু করে বংশাল থানার পুলিশ। এরপর ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে মামলটির তদন্তভার পায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

দুই বছর ৯ মাস পর গেল ডিসেম্বরে তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম।

অভিযোগপত্রে কুইনস স্যানেটারি মার্কেটের ভবন মালিক ওয়াহিদুর রহমান ও মতিউর রহমান এবং সেনেটারি দোকানের মালিক আ. মোতালেব মিন্টুর ‘অবহেলা ও লোভের’ কারণে ওই ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ডে গ্যাস জমে ভয়াবহ বিস্ফরেণ ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিটিটিসির দেওয়া অভিযোগপত্রটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার গত ১৪ জানুয়ারি গ্রহণ করেন। মামলাটি বিচারের জন্য গত ২০ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। আগামি ১ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগ গঠনের পর জন্য ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত তিনজন বর্তমানে জামিনে আছেন। আগামী ১ এপ্রিল এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

অভিযোগপত্রে সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রাইজার থেকে মূল ভবনের গ্যাসের সংযোগ লাইন ভূমির ওপরে দৃশ্যমান থাকার কথা। তবে গ্রাহক তা না করে রাইজার থেকে লাইনটি মাটির নিচ দিয়ে নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে রাইসুল ইসলাম তিতাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাটি খোঁড়েন। এতে দেখা যায়, রাইজার থেকে ভবন পর্যন্ত বাণিজ্যিক সংযোগের দেড় ইঞ্চি ব্যাসের মোটা পাইপ বিচ্ছিন্ন না করেই আবাসিক সংযোগের পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ১৯৮২ সালে ভবনের মালিক ওয়াহিদুর রহমান ও মতিউর রহমানের বাবা রেজাউর রহমান প্রথম তিতাস গ্যাসের আবাসিক সংযোগ নেন। ১৯৮৩ সালে ওই ভবনে ‘ক্যাফে কুইন’ রেস্তোরাঁ যাত্রা শুরু করলে তিতাস গ্যাস থেকে একটি বাণিজ্যিক সংযোগ নেয় তারা। এরপর ২০০২ সালে রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দিয়ে তিতাস গ্যাসে আবেদনের মাধ্যমের বাণিজ্যিক সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। ২০০৪ সালে আবার ওই ভবনে আবাসিক ব্যবহারের জন্য গ্যাসের লাইন বর্ধিত করা হয়।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী কোনো সংযোগ নেওয়া হলে তিতাস থেকে শুধু রাইজার পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়। বাকি গ্যাস সংযোগের কাজ ভবন মালিক নিজ দায়িত্বে তিতাসের নকশা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের মাধ্যমে করে থাকেন। কিন্তু ভবনটির গ্যাস সংযোগের অনুমোদিত নকশার সাথে বাস্তবতার কোন মিল পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে রাইসুল ইসলাম আরো উল্লেখ করেন, রেজাউর রহমান ২০১১ সালে মারা গেলে তার দুই ছেলে ওয়াহিদুর রহমান এবং মতিউর রহমান ভবনটি দেখভালের দায়িত্ব নেন। কিন্তু তারা বাড়তি আয়ের আশায় অনুমোদন না নিয়েই ভবনের নকশা পরিবর্তন করে বেইজমেন্টে ও দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন।

অপর আসামি মোতালেব মিন্টু ভবন মালিকের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে অনুমোদিতভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করেন। আসামিদের এ ধরনের অবহেলা এবং অপরাধমূলক লোভী কর্মকাণ্ডের কারণে ওই ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে গ্যাস জমে ভয়াবহ বিস্ফারণ ঘটে বলে তদন্তে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, অভিযোগ গঠনের শুনানির সব রকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে যথেস্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। ভূক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাক্ষীদের হাজির করে মামলার বিচার কার্য দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করব।

মতিউর ও জাহিদুরের আইনজীবী আবুল আউয়াল বলেন, মামলার অভিযোগপত্রে আমার মক্কেলদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেখা যাক, কী করতে পারি। পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। আর উনারাও ভিকটিমাইজড সহ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ভবনটি ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর দীর্ঘদিন ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মোতালেব মিন্টুর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন সবকিছুর দায়ভার বাড়ির মালিকের জানিয়ে বলেন, আমার আসামি মোতালেব মিন্টু চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওই দিনের বিস্ফোরণে তার নিকটাত্মীয়সহ তিনজন মারা গেছে। তাকে নির্দোষ প্রমাণে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।

ওই দিন ঘর সাজানোর স্যানিটারি পণ্য কিনতে গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে গিয়েছিলেন মোমিনুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী নদী বেগম। সেদিন বিস্ফোরণে দুই জনই মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহত মোমিনুলের স্বজন জয়নাল আবেদীন বলেন, যাদের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের সাজা চাই। এর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও দাবি করেন তিনি।

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে শুনানি রোববার

বাগেরহাট-১ আসনের ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আনিস আলমগীরের জামিন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চাঁদপুর আইনজীবী সমিতির বিএনপি প্যানেল বিজয়ী

সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় আইভীর জামিন নামঞ্জুর

প্রতারণার মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন টয়োটার এমডিসহ তিন কর্মকর্তা

হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী নেতা রিয়াদ ২ দিনের রিমান্ডে

আয়নাঘরে গুম করে নির্মম নির্যাতন করা হয় মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল চৌধুরীকে

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল

নতুন প্রমাণাদি দাখিলে রামপুরা মামলার রায় ঘোষণা স্থগিত