হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তরবঙ্গের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রাচীন বাতিঘর

মেহরান আল বান্না ইউশা

সবুজ বৃক্ষরাজি আর স্থাপত্যশৈলীর এক অপূর্ব মেলবন্ধনে ঘেরা ১৫২ একরের ক্যাম্পাস—রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) দেশের প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম বাতিঘর। ১৯৬৪ সালে ‘রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে, ১৯৮৬ সালে ‘বিআইটি, রাজশাহী’ এবং ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত একটি শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রুয়েটে বর্তমানে চারটি অনুষদের অধীনে ১৮ বিভাগে প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন করছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও গবেষণামুখী পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হয়েছে। সফট স্কিল ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপদ আবাসন এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ইনোভেশন হাবসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আধুনিক সুবিধা ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি রুয়েট শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে সহায়ক হবে।

রুয়েটের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি রোবোটিকস, প্রোগ্রামিং ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে সক্রিয়। বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও হ্যাকাথনে সাফল্য অর্জন করছে। ‘ঐশী জ্যোতিই আমাদের পথপ্রদর্শক’—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে রুয়েট এগিয়ে যাচ্ছে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে, যেখানে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে আগামীর বাংলাদেশ।

আবাসিক হল

রুয়েটের আবাসিক হলগুলো শুধু বসবাসের স্থান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতার অংশ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য আটটি হল, একটি এক্সটেনশন হল এবং ছাত্রীদের জন্য দুটি হল রয়েছে। আগে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা থাকলেও নতুন করে দশতলার চারটি আধুনিক হল যুক্ত হওয়ায় এখন প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী আবাসনের আওতায় এসেছেন, যা দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট অনেকাংশে লাঘব করেছে।

বর্তমানে বিভিন্ন হলে আসনসংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। এর মধ্যে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হলের তিনটি অংশে প্রায় ৮১০ শিক্ষার্থী বসবাস করছেন। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলে প্রায় ৪৮০ জন, শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলে প্রায় ৫৫০ এবং শহীদ শহীদুল ইসলাম ও শহীদ আব্দুল হামিদ হলে প্রায় ২২৫ জন করে শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন হলগুলো চালু হওয়ায় আবাসনের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশও নিশ্চিত হয়েছে।

আবাসিক জীবন শুধু থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা, স্মৃতি আর অভিজ্ঞতার এক অনন্য মেলবন্ধন, যা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকে।

এই আবাসিক জীবনের পাশাপাশি ক্যাম্পাস গেট থেকে প্রায় ১০ মিনিট হাঁটলেই পদ্মার পাড়ে ‘ফুলতলা’—রুয়েটিয়ানদের প্রিয় অবকাশ কেন্দ্র। এখানে এসে মিলিয়ে যায় পড়াশোনার চাপ, ল্যাপ্লাস ট্রান্সফর্ম বা জটিল সমীকরণের ক্লান্তি। গ্রীষ্মের বালুচর, বর্ষার বিস্তৃত জলরাশি ও শীতের কুয়াশা—সব ঋতুতেই ফুলতলা ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্যে ধরা দেয়। আড্ডা, স্মৃতি আর একান্ত মুহূর্তের এই স্থানই রুয়েট জীবনের এক অনন্য অংশ।

মেইন গেট : প্রথম দেখা, বিদায়ের শেষে

রাজশাহী-নাটোর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে কাজলা এলাকায় অবস্থিত রুয়েটের প্রধান ফটক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়ের প্রথম প্রতিচ্ছবি। বিআইটি থেকে রুয়েটে রূপান্তরের পর এবং ২০১৭ সালের ইসিএনইসি অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গেটটি আধুনিক নকশায় নির্মিত হয়।

স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এটি শুধু প্রবেশদ্বার নয়, বরং একটি প্রতীকী স্থাপত্যে রূপ নিয়েছে। উঁচু স্তম্ভ, নামফলক ও নিরাপত্তা বুথ মিলিয়ে গেটটি দৃষ্টিনন্দন। তবে এর প্রকৃত গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে—ভর্তি পরীক্ষা থেকে স্নাতক সমাপ্তি পর্যন্ত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর নীরব সাক্ষী এই গেট।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

ভাষা আন্দোলন ১৯৫২-এর স্মৃতিবাহী শহীদ মিনার বাঙালির চেতনার এক অমলিন প্রতীক। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করেন, যার নকশা করেন বদরুল আলম। পরে হামিদুর রহমানের নকশায় এবং নভেরা আহমেদের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হয়।

এই স্থাপত্যধারার অনুকরণে রুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ক্যাম্পাসের আবেগ ও শ্রদ্ধার কেন্দ্র। প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারি রাতে শিক্ষার্থীরা খালি পায়ে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরণ করে। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও আত্মত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক।

আমতলা : যান্ত্রিক জীবনের এক টুকরো প্রশান্তি

প্রকৌশল শিক্ষার ব্যস্ততা, ল্যাব, ক্লাস আর অ্যাসাইনমেন্টের জাঁতাকলে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন রুয়েট ক্যাম্পাসের বুকে এক চিলতে শান্তির নাম এই ‘আমতলা’। ক্লাস, ল্যাব আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপের মধ্যেও এই জায়গাটি শিক্ষার্থীদের নিঃশ্বাস নেওয়ার অবকাশ এনে দেয়। বিশাল আমগাছের ছায়ায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জমে ওঠে প্রাণবন্ত আড্ডা, জন্ম নেয় গভীর বন্ধুত্ব আর নীরবে বোনা হয় অগণিত স্মৃতি।

দিন হোক কিংবা রাত, আমতলায় সবসময়ই থাকে এক অন্যরকম প্রাণের স্পন্দন। উৎসবের দিনে রঙিন আলো, লণ্ঠন আর মানুষের উচ্ছ্বাসে এটি হয়ে ওঠে আরো মোহনীয়। গিটারের মৃদু সুর আর হাসির কলতানে মুখর এই স্থানটি যেন রুয়েট জীবনের হৃৎস্পন্দন। তাই আমতলা শুধু একটি জায়গা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস।

স্থাপত্য বিভাগের দৃষ্টিনন্দন প্রাঙ্গণ

রুয়েট ক্যাম্পাসের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন এবং নান্দনিক স্থাপনার কথা উঠলেই সবার আগে চোখের সামনে ভেসে ওঠে ‘স্থাপত্য বিভাগ’ বা আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্ট। লাল ইট, খোলা বারান্দা আর আধুনিক নকশার এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়া এই ভবনটি পুরো ক্যাম্পাসের মাঝে যেন শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন।

ক্যাম্পাসের যেকোনো উৎসব-আয়োজনে এই স্থাপত্য বিভাগের জুড়ি মেলা ভার। কঠিন বোর্ড ভাইভা শেষের সেই স্বস্তির মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করা হোক কিংবা কোনো বড় ইভেন্ট আয়োজন—শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ এই নান্দনিক জায়গাটি। বিশেষ করে, বসন্তবরণ কিংবা পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবগুলোয় আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্ট এক বর্ণিল ও উৎসবমুখর সাজে সেজে ওঠে। চারপাশের রঙিন সাজসজ্জা, ভিনটেজ বাসের সৌন্দর্য আর শিক্ষার্থীদের কোলাহলে তখন লাল ইটের এই ভবনটি হয়ে ওঠে রুয়েট জীবনের অন্যতম প্রাণবন্ত ও রঙিন একটি ক্যানভাস।

সেন্ট্রাল লাইব্রেরি

রুয়েটের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বই সংযোজন, অবকাঠামোগত সংস্কার এবং পাঠাগার সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও ফলিত বিজ্ঞানের পাশাপাশি ক্যারিয়ার উন্নয়ন, বিসিএস ও চাকরি প্রস্তুতিমূলক বই যুক্ত হওয়ায় এটি এখন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দোতলায় স্থাপিত RUET Innovation Hub শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ মেন্টরশিপ ও নিয়মিত কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।

স্টার্টআপ, প্রতিযোগিতা ও প্রজেক্ট প্রদর্শনীর মাধ্যমে তারা নিজেদের দক্ষতা প্রকাশ এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিখাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সেন্ট্রাল ফিল্ড

সেন্ট্রাল ফিল্ড শুধু একটি খেলার মাঠ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের প্রাণের কেন্দ্র, আবেগের জায়গা এবং ক্যাম্পাস জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন বিকেলে এই মাঠে জমে ওঠে ক্রিকেট, ফুটবল ও বিভিন্ন খেলাধুলার প্রাণচাঞ্চল্য, যা শিক্ষার্থীদের ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে ভরিয়ে তোলে।

এই সেন্ট্রাল ফিল্ড শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আয়োজন ও সমাবেশেরও প্রধান কেন্দ্র এটি। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা, হাঁটাহাঁটি কিংবা সন্ধ্যার নির্মল বাতাস উপভোগ করার জন্যও এটি একটি প্রিয় স্থান।

জিমনেশিয়াম

রুয়েটের জিমনেশিয়ামটি নবায়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনযাপনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। নতুন ও উন্নতমানের ফিটনেস যন্ত্রপাতি, নান্দনিক অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং অধিক প্রশস্ত বিন্যাসে সাজানো এই জিম এখন শুধু শরীরচর্চার স্থান নয়, বরং একটি প্রাণবন্ত স্বাস্থ্যচর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এ জিমনেশিয়াম ব্যক্তিগত অনুশীলনের পাশাপাশি দলীয় প্রশিক্ষণের সুযোগও সম্প্রসারিত করেছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্যের সমন্বয়ে একটি সুষম ক্যাম্পাস জীবন গড়ে তুলতে রুয়েটের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আধুনিক ফুড কোর্ট চত্বর

রুয়েট শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ করে সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ‘রুয়েট ফুড কোর্ট’। রুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরির উত্তর পাশে অবস্থিত এই নান্দনিক চত্বর এখন শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও খাবারের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগে এখন ক্যাম্পাসের ভেতরেই পাওয়া যাচ্ছে রেস্তোরাঁর স্বাদের বৈচিত্র্যময় খাবারের সমাহার। বিশেষ করে, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি বার্গার, পিৎজা, পাস্তা থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার ও বিভিন্ন ধরনের পানীয় শিক্ষার্থীদের যান্ত্রিক জীবনে কিছুটা স্বস্তি যোগ করছে। তবে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এই উদ্যোগটি অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অনুকরণীয় ও আধুনিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদ

রুয়েট ক্যাম্পাসের নীরব সৌন্দর্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা কেন্দ্রীয় মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক স্থিতির অন্যতম আশ্রয়স্থল। ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের চাপ, ল্যাব, ক্লাস ও অ্যাসাইনমেন্টের ঘনঘটায় যখন মন ক্লান্ত হয়ে ওঠে, তখন এই মসজিদের স্নিগ্ধ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের এনে দেয় এক অপার্থিব স্বস্তি।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় এখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ক্যাম্পাসজীবনে এক গভীর মানবিক বন্ধনের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। মসজিদের পরিচ্ছন্নতা, সুবিন্যস্ত অজুখানা এবং শান্ত স্থাপত্য ক্যাম্পাসের নান্দনিকতাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং জীবনের কঠিন মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

লো সিজি চত্বর

লো সিজি চত্বর রুয়েট ক্যাম্পাসের প্রাণস্পন্দনের আরেক নাম। রুয়েট মেইন গেটের সামনে দিনের বিভিন্ন সময়ে এখানে জমে ওঠে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিÑযেখানে একদিকে থাকে ক্লাসের ফাঁকে স্বল্প বিশ্রাম, অন্যদিকে থাকে স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও বন্ধুত্বের অনিঃশেষ গল্প। এই চত্বর যেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক অনানুষ্ঠানিক পাঠশালা, যেখানে বইয়ের বাইরের জীবনকে জানা যায় সবচেয়ে গভীরভাবে। বিকালের নরম আলোয় কিংবা সন্ধ্যার মৃদু আবহে এখানে বসে বন্ধুরা ভাগাভাগি করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, ভালোবাসা, হাসি আর অগণিত স্মৃতি। এখানে প্রতিটি আড্ডা, প্রতিটি হাসি, প্রতিটি বিতর্ক যেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সৌন্দর্যকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। এই চত্বরের মাটি যেন অসংখ্য স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর পদচারণে প্রতিদিন আরো অর্থবহ হয়ে ওঠে।

চিরকুমার চত্বর

চিরকুমার চত্বর—নামেই যেন লুকিয়ে আছে রসিকতা, ক্যাম্পাস সংস্কৃতি এবং তারুণ্যের অনাবিল হাসি। রুয়েটের শিক্ষার্থীদের কাছে এটি শুধুই একটি চত্বর নয়; বরং মজার গল্প, বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি এবং অমলিন স্মৃতির এক অনন্য কেন্দ্র। নামটি শুনলেই মুখে হাসি ফুটে ওঠে আর সেই হাসির মধ্যেই ধরা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের হালকা, প্রাণবন্ত ও মানবিক দিকটি। এখানে বিকালের আড্ডা মানেই গল্পের ঝাঁপি খুলে বসা—ক্লাসের চাপ, প্রজেক্টের টেনশন কিংবা জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা—সবকিছুই মিশে যায় সহজ হাস্যরসে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে শিক্ষার্থীরা যখন ফিরে তাকায়, তখন এই চত্বরের গল্পগুলোই সবচেয়ে বেশি আবেগঘন হয়ে হৃদয়ে বাজে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন নিয়ে ঢাবিতে আলোচনা সভা

রাকসুর উদ্যোগে রাবির ১২ হলে ফার্স্ট এইড বক্স বিতরণ

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য জিয়াউর রহমান

বিশেষ বৃত্তির ব্যাংক হিসাব খুলছে জবি শিক্ষার্থীরা

নানার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাবার নামে, বাকৃবিতে ভর্তি বাতিল

চবির সব ফি পরিশোধ করা যাবে অনলাইনে

১৯ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকদের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরিতে সহায়ক বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ

রাবিসাসের সভাপতি কাদির, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব

ঢাবিতে বজ্রপাতে দুই শিক্ষার্থী আহত