ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার প্রায় ১০ মাসেও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। সাজিদ হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, তার নামে হলের নামকরণ এবং তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে মানবন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সাজিদের সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও ইবি শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে সাজিদের বন্ধু উসামা বলেন, আমাদের দাবি ছিল- সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে হলের নামকরণ। সেই দাবিতে স্বাক্ষর করা হলেও কেন সাজিদের নামে সেই হলটা এখনো বরাদ্দ দেওয়া হলো না এবং সাজিদের ফ্যামিলিকে যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল, সেই ক্ষতিপূরণ কেন সাজিদের পরিবার কে দেওয়া হলো না তা জানতে চাই।
তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করতে চাইলে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সুরাহা করেন। যদি আপনাদের পক্ষে এটা বাস্তবায়ন করা না যায় তাহলে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করেন।
ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, আপনাদের ঢিলেমির কারণে যদি সামনে আবারো কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাদেরকেই নিতে হবে। আপনারা যদি না পারেন, তাহলে যারা পারে তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করুন। যদি দায়িত্ব না নিতে পারেন, তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন।
ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান বলেন, বর্তমান প্রশাসনের নূন্যতম সদিচ্ছা নেই সাজিদ হত্যার বিচার করার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি স্টেকহোল্ডার এখন অনিরাপদ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হয়তো সাজিদ হত্যাকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের যোগসাজশ থাকতে পারে। কারণ তারা বড় বড় ইভেন্টে কখনো সাজিদের নাম নেয় না। সাজিদের নামে হল করার কথা থাকলেও করেনি। হয়তো ভেবেছে এগুলো করলে সাজিদকে সবাই স্মরণ করবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল।